ড. বিপ্লব মন্ডল

মেন্স রিটায়ারিং রুম ১ পর্ব

প্রথম পর্বের পর….

—না, তা ঠিক নয়, আসলে নীচে কেউ না কেউ আসে যায়— মা-বাবা হয়তো খেয়াল রাখবে না। ছাড় মধুর কথা— দিন দিন যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে জানিস? তোর খবর বল। টিনটিন-এর পড়াশুনো কেমন হচ্ছে?—অর্ণব জিজ্ঞাসা করল।

—সব বাড়িতেই এক অবস্থা। টিনটিন পড়ে ভালই তবে ইদানিং ওর মোবাইল ঘাটা-টা একটু বেড়েছে। বললে শোনে না। —আর বউদি—সব ঠিকঠাক তো?— শুভ জিজ্ঞাসা করলো।

–হুম ঠিক ঠাক! আসলে কি জানিস— নদীর এপার কহে… –কেন রে কি হল? —টিনটিনকে পড়াতে বসে ওর হাতে পেন ফুটিয়ে দেয়। আগেও একবার বলেছিলাম। মনে আছে?

—ধুর, এটা তোর বউ-এর একটা বাজে অভ্যাস। অতটুকু ছেলে— কিছু বলিসনা তুই? —সে আর এক যন্ত্রণা ভাই। এতসব কিছু করে ছেলেকে নিয়ে কিছু বললে আমায় বলে, ‘অ্যাবনরম্যাল’-জানিস? —তারপর তুই বেশ সুখেই আছিস বল?

শুভর উদ্দেশ্যে বলল অর্ণব। শুভজিৎ- এর এই দুবছর বিয়ে হয়েছে-বাচ্চাকাচ্চা এখনও হয়নি। —শুভ বলল-আর সুখে। প্রায় দিনই খাতা দেখতে দেখতে রাত একটা হয়ে যায়, ওর স্কুল তো একটু দূরে-সকালে দিনের পর দিন ভাতে ভাত বা ডাল-একটা তরকারি খেয়ে যাই। একটা কুক রাখার কথা বললাম সেদিন— কি জঘন্য সব এদের চিন্তাভাবনা ভাই!!

—কেন কি বলল তোর বউ? তোকেই টাকাটা দিতে হবে তাই তো? —সে তো দেবই। ফ্ল্যাটের ই.এম.আই থেকে শুরু করে সবই তো আমিই দিই… —তাহলে? —থাক অর্ণব সে সব শুনলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। আমি শুধু ভাবি—এরা যে কেন এম.এ পড়েছিল ভাই? —বল বল– আমাদের ঘটনা তো সব শুনলি! এর থেকে আর কত খারাপ আছে? নীলাদ্রি বলল ।

—রান্নার লোক রাখার কথা বলতে সেদিন আমায় বলল— খাওয়াও হবে আর শোয়াও হবে।

—ছিঃ ছিঃ!! —বুঝেছিস— এরা সবই পারে মুখে কিছু আটকায় না। শোন না ছুটির দিনগুলো বাড়িতে থাকা অসহ্য হয়ে উঠেছে— এত চেঁচায় আমার বউ!

টিনটিনকে পড়ালে পাশের ফ্লাটেও সবাই ভয়ে ভয়ে থাকে চিৎকার শুনে, নীলাদ্রি বলল। এখন থেকে আড্ডাটা প্রতি উইকে-ই বসতে হবে বুঝলি?

—আমি তো ভাবছি, বয়স্কদের জন্য ওল্ড-এজ হোম, বাচ্চাদের জন্য ক্রেশ, আমাদের মত মাঝবয়সীদের কিছু একটু থাকা দরকার…

হাঃ হাঃ হাঃ- অর্ণব হাসতে হাসতে বলল অন্ততঃ স্ত্রী রত্নদের থেকে একটু পরিত্রাণ পেতে!

—গুড আইডিয়া আমায় পড়ানোর ঘরটা তো সপ্তাহে ৪-৫দিন ফাঁকাই থাকে।

এটাকে আমরা মেন্স রিটায়ারিং রুম বানাবো— কি বলিস? কি শুভ এগ্রি তো?

—নিলাদ্রি বলল। হাঃ হাঃ হাঃ