অজিত ঘোষ
ইতি, তোমার তিতলি
চিঠিটা পড়ে আমার হুশ হল কত ট্রেন এসময়ের মধ্যে এসেছে, চলে গেছে খেয়াল করা হয়নি । বুঝলাম তিতলি ভুল করে, ‘তোমার তিতলি’ লিখেছে। না, ব্যাগটা আমি তিতলির বাড়িতে ফেরত দিতে পারিনি। রাত্রির অন্ধকারের সুযোগে জানালা দিয়ে চিঠিটা ছুঁড়ে দিয়েছিলাম তিতলির বাবার ঘরে। আমাদের আর কোনদিন দেখা হয় নি। এ শহরে সে এসেছিলো কিনা জানা নেই।
পঁচিশ বছর আগের সেসময় মোবাইল ফোন ছিল না, এযুগের মতো হাতে হাতে মোবাইল থাকলে তিতলি ফোন করে বাড়িতে জানিয়ে দিত। আমার প্রয়োজন হত না। ব্যাগটিও আমার কাছে থেকে যেত না!
সব প্রেম বিচ্ছেদ নয়, সব বিচ্ছেদই প্রেম। একটি প্রশ্ন আমায় তাড়া করে ফেরে, আমি কি তিতলিকে ভালোবেসেছিলাম? উত্তর নেই! এমন প্রশ্নের উত্তর থাকেও না। তবে এত বছরের ব্যবধানেও আমি তিতলিকে ভুলতে পারিনি। এখনো তার চুলের স্পর্শ আমার শরীরে ঢেউ তুলে যায়। প্রবল শক্তিশালী সেই ঢেউয়ের সামনে অন্য কোন নারী দাঁড়াতে পারেনি আজও।
এখন বছরের প্রতিটি দিনই কোন না কোন দিবস। সেই হিসেবে বছরভর দিবসের উৎসব। সেই উৎসবে আমার জীবন আকাশে উজ্জ্বল নারী দিবস। নারীর, নারীতে ফেরার উৎসব নারী দিবস। পাথর সিঁদুরের পরশ পেতে পেতে এক সময় ঠিক ঈশ্বর হয়ে ওঠে। তিতলির সঙ্গে আমার বিচ্ছেদের দিনটি ছিল সাধারণ পাথরের মতো। তারপর প্রতিটি নারী দিবসে আমার প্রার্থনার সিঁদুর পরশে সেই পাথরে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হয়ে উঠেছে ঈশ্বর।
প্রতিটি নারী দিবসের রাত্রির গভীরে তিতলির ব্যাগের চেন খুলে বিশ্বাস খুঁজি। অশক্ত পায়ে লাঠির ভরসায় মাঝে মাঝে গিয়ে দাঁড়াই স্টেশনের বাইরে, যেখানে অনেক রাত্রি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম তিতলির জন্য ।
সমাপ্ত….
