জোৎস্না রায়
অমিতাভ সোম। শ্রমণার স্বামী, ব্যক্তিত্বপূর্ণ চেহারার অমিতাভ বরাবরই একটু খেয়ালী ধরনের।
যাদবপুর থেকে খুব ভালো রেজাল্ট করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পর সরকারী চাকরী পেয়ে ও সেখানে কাজ করার কিছু নেই এই অজুহাতে একটা প্রখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীতে চাকরি নেয়। এরপর তার পদোন্নতি হয়েছে, ফার্মে তার বিরাট প্রতিপত্তি। তাই দায়িত্ব ও বেড়েছে। বছরে দুবার ইন্ডিয়ার বাইরে যেতে হয়।
অমিতাভরা এই মফঃস্বলে বাড়ি করে আসার আগে দক্ষিণ কোলকাতার এক বনেদী পাড়ায় পৈতৃক বাড়িতে বাস করতো। নিরিবিলি থাকার বাসনায় সেখানকার পাট চুকিয়ে এখানে জমি কিনে মনের মতো বাড়ি করে আসা। রানী খালি কাপটা নিতে এসে দাঁড়ালো। শ্রমণাকে অন্যমনস্ক দেখে কৌতুহল সামলাতে না পেরে জিজ্ঞাসা করলো, ‘বৌদিমনি ছেলেটা কি কিনতে বলছিলো গো?
শ্রমণা বললো, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। রানী বললো, সেটা আবার কি গো? শ্রমণা বললো, টিভিতে দেখিস না, ধুলো পরিস্কার করার মেশিন। রানী অবাক হয়ে বললো, ওমা, আবার মেশিনের কি দরকার গো। ময়লা হলে কেচে দিলেই তো হোল, কি জানি, বলতে বলতে খালি কাপ নিয়ে ভিতরে চলে গেল। এখুনি দাদাবাবু আসবে তার এমন অনেক কাজ। আজ সে দাদাবাবুর জন্য দইবড়া বানিয়ে রেখেছে। জল ফুটিয়ে চা পাতা ভেজাতে হবে।
অমিতাভর হঠাৎ খেয়াল চেপেছিল নিরিবিলিতে থাকবে। তাই পৈতৃক বাড়িটা বিক্রি করে কিছু জমানো পয়সা ছিল শ্রমণারও কিছু জমানো ছিলো সব দিয়ে এখানে একটু করে জমি কিনে এই ছোট বাড়িটা বানালো। তিনদিকে বাউন্ডারী পাঁচিল ঘেঁষে সারি সারি সুপারি গাছ। শহরের অদুরে হলেও পাড়াটা বেশ অভিজাত। সাহিত্যিক, উকিল, ডাক্তার প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তির বাস। তাই এখানে আসার পর মনখারাপ লাগলে এদের সঙ্গে মিশে ওরা খুব বেশি, সোম দম্পতির সঙ্গে সকলের খুবই হৃদ্যতা। ওরা নিজেদের ব্যবহারে সকলকে আপন করে নিয়েছে। মিলেমিশে বেশ আছে। প্রত্যেক ছুটির দিনে কারও না কারও বাড়িতে চুটিয়ে আড্ডা হয়। কেউ কবিতা পাঠ করে, কেউ গান শোনায়, কেউ গল্প লিখে শোনায়। খুবই উপভোগ্য আড্ডা। ডা. ভৌমিকের স্ত্রী তনিমা খুব ভালো গান গায়। এখানে আসার পর তনিমাদিই রানীকে এনে দিয়েছিলেন। খুব ভালো মেয়ে রানী, শ্রমণা শুধু রান্নাটুকু করে। বাকি সমস্ত কাজ রানী করে, হাতের কাজ ও খুব পরিষ্কার, সব কিছুই তাই ঝকঝক্ করছে। রানী এসে শ্রমাণকে তাই প্রায় অকেজো করে তুলেছে। তাই আজকাল অবসর মুহূর্তগুলো ভয় করে, সর্বক্ষণ একটা পরম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার যন্ত্রণা তাকে কুরে কুরে যায়। ডোরবেলটা বেজে উঠলো। অমিতাভ এসে গেছে।
ক্রমশ …..
