সঞ্জয় চক্রবর্তী

আমি শ্রীযুক্ত জ্ঞান চন্দ্র সেন। আজ্ঞে, জ্ঞান- বুদ্ধি বিশেষ কিছুই নেই, শুধু বাহারি ওই নামটুকুই সম্বল। থাকগে, দেখতে দেখতে আজ প্রায় অর্ধশতকের তীরবর্তী স্থানে ঘোরাফেরা করছি। সত্যি বলছি জীবনে বহু ভালো-মন্দ উঁচু-নিচু বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী দৃষ্টি আবছা হয়ে আসা চোখ দুটো। কত ছোট বড় ঘটনা কোনোটা আনন্দ দিয়েছে আবার কোনোটা বয়ে এনেছে দুঃখ। তাই কোন কিছুই কোনদিন ভালো না লাগলেও বিশেষ গায়ে। লাগেনি। কিন্তু জীবনে এরকম একটা ঘটনার সাক্ষী হতে হবে তা কখনোই ভাবিনি” যা কিনা

আমার বাকি জীবনের অভিজ্ঞতা মূলধন হয়ে থাকবে। এবার মূল ঘটনায় আসি। আমি উত্তর কলকাতার বাসিন্দা এবং ওটা আমার জন্ম ভিটেও বটে। সেদিন সকালবেলা বাজার সেরে বেলা দশটা নাগাদ মনে হল একটু ক্লাবের দিকে যাই।

আজ বিশেষ কাজকর্ম নেই। তাই যদি কোন বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা হয় তাহলে খানিকটা আড্ডা দেওয়া যাবে। গিয়ে দেখি পাড়ার মোড়ে কেমন যেন সাজো সাজো ভাব। আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একজন ডেকে উঠল আরে বোকা দা (আমার জনপ্রিয় নাম), আরে এদিকে এসো মাইকে বলতে হবে তো।

– দাঁড়া দাঁড়া কি বলতে হবে মাইকে? কি ব্যাপার রে ভাই? আমি বললাম।

– তুমি থাকো কোথায় বলতো? খবর দেখো না….. তাড়াতাড়ি এসো তো সময় নষ্ট

করো না। অনেক কাজ বাকি আছে, অনেক অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে হবে। তুমি শুধু ত্রাণের ব্যাপারে মানুষ যাতে মুক্ত হস্তে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে সেই ভাষণটা শুরু করে দাও। কত যে কাজ গাড়ি ভাড়া করা, মাল প্যাকিং করা…. গেল।

বকবক করতে করতে পটা চলে আমি দা- হা করে সামনের দিকে তাকিয়ে ভারতে থাকলাম, সত্যিই আমার বোকা নামটা সার্থক। না হলে বাচ্চাগুলো সবাই বুঝে গেল যে এই অতিমারি আর ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গার মানুষগুলো কত কষ্টে আছে আর সেই আত্মগ্লানিতে ভুগে ভুগে তাদের মাথা খারাপ হবার যোগার। আর আমি কিনা কিছুই জানিনা। তাহলে আমি বোকা ছাড়া আর কি?

যাইহোক, মাইকে ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যা যা বলার তাই বললাম। তিনদিন পর রবিবার ভোরবেলা বেরোনো হবে। যাতে কোনোভাবেই কারোর কষ্ট ভোগ করতে না হয় তাই সকালবেলার সময় বাছা হয়েছে। যদি ত্রাণ দিতে দু-তিন দিন দেরি হয় তাতে কি আর আসে যায়। বিনা পয়সায় মানুষগুলো ত্রাণ পাচ্ছে তো তাতেই অনেক।

ক্রমশ…..