সজলকান্তি দাশগুপ্ত

শ্রীরামকৃষ্ণদেব নানাভাবে সাধনা করেছিলেন। কখনো তিনি হনুমান সেজে দাস্যভাবে সাধনা করেছিলেন। সেই সময় তিনি সম্পূর্ণরূপে হনুমানের  মতই আচার আচরণ করতেন। ফলমূল আহার রূপে গ্রহণ, কাপড়টাকে লেজের মতো করে পরে লাফিয়ে লাফিয়ে চলতেন। আবার মা ভৈরবীর আগমনে তিনি বৈষ্ণব তন্ত্র সাধনার চৌষট্টিখানা তন্ত্রের সকল প্রকার |সাধনা করেছিলেন।

সেই সময় আনন্দাসনে সিদ্ধিলাভ, শিবানীর উচ্ছিষ্ট গ্রহণ, কুণ্ডলিনী জাগরণ ও দর্শন, ব্রহ্মযোনি দর্শন, মোহিনীমায়া দর্শন, নরমাংস ভক্ষণ আস্বাদন প্রভৃতি নানা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

দক্ষিণেশ্বরে জটাধারীর আগমনে তিনি বাৎসল্যভাবে সাধনা করেছিলেন। জটাধারীর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করে রামলালা সেবায় নিমগ্ন হয়েছিলেন। এরপর তিনি মধুরভাবে ঈশ্বরের সাধনা করেছিলেন। এই সময়ে মথুরমোহন ঠাকুরের নারী বেশ ধারণের জন্য বহু মূল্যের বেনারসি শাড়ি, ঘাগড়া, ওড়না, কাঁচুলি, স্বর্ণালঙ্কার প্রভৃতি এনে দিয়েছিলেন। মধুরভাবে সাধনা কালে ঠাকুর নিজেকে নারী মনে করতেন এবং রাধাভাবে তিনি ঈশ্বরের সাধনা করেছিলেন। এরপর তিনি শ্রীমৎ তোতাপুরী কাছে দীক্ষা গ্রহণ করে বেদান্ত সাধনা করেছিলেন। তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ভাব সমাধিতে ছিলেন।

বেদান্ত সাধনার পর তিনি ইসলাম ধর্মের সাধনা করেছিলেন। দক্ষিণেশ্বরের কালিবাড়ি শুধুমাত্র হিন্দু নয়, সকল ধর্মের মানুষকে সমানভাবে সমাদর করতো। সেই সময় বহু হিন্দু মাধুদের মত মুসলমান ফকিরেরাও এখানে আসতেন। একদিন গোবিন্দ রায় নামে এক ব্যক্তির আবির্ভাব হলো দক্ষিণেশ্বরে।

ক্রমশ …..