প্রবীর আচার্য
কথায় বলে যার নুন খাই, তার গুণ গাই। আমরা এখন সাধারণত বিজ্ঞাপিত নামি-দামি বাণিজ্যিক সংস্থার চকচকে মোড়কওয়ালা নুন খাই। কিন্তু আমি ওই বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর গুণ প্রাণ খুলে গাইতে পারছি না। শুনছি, দেবতারা মানুষের দেওয়া নুন খান না, কারণ তাহলে মানুষের গুণ গাইতে হবে যে। তাই দেবতাদের ভোগে নুন দেওয়া নিষেধ। মনে আছে, ডাকাত সর্দার আলিবাবার আতিথ্য নিয়ে বলেছিল, আমি নমক খাই না। কারণ তার উদ্দেশ্য ছিল আলিবাবাকে খুন করা। সর্দারজি মানুষ খুন করতে পারব, কিন্তু নিমকহারামি করতে পারব না। বুঝুন ঠ্যালা। এ প্রবন্ধ সত্যি কথা বলত গেলে আমাকে কিন্তু নিমকহারামি করতেই হবে। এও এক ল্যাঠা। তবে আক্ষরিক অর্থ ধরলে নিমকের সঙ্গে হারামের কোনও শত্রুতা নেই, যেমন আদা আর কাঁচকালায় আছে। শুয়োরের মাংস নুন দিয়েই রান্না করে। সেই অর্থে বিচার করলে আমাকে ক্ষমা-ঘেন্না করে দিতে পারেন।
আমরা জানি লবণের মূল উৎস হল সমুদ্র। কিন্তু সমুদ্রের জলই বা এত লবণাক্ত হল কেন? আসলে স্থলভাগের লবণই কোটি কোটি বছর ধরে দ্রবীভূত হয়ে সমুদ্রে পড়ছে, আর তাতেই সমুদ্র হয়েছে লবণাক্ত। সূর্যের তাপে সমুদ্রের জল যখন বাষ্পীভুত হয় তখন দ্রবীভূত লবণকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। বাষ্পীভূত সেই বিশুদ্ধ জল মেঘ হয়ে বৃষ্টিতে পরিণত হয়।
ক্রমশ ……
