শ্রেয়া ঘোষাল

জায়গাটা নামে চেনাছিল। সেটুকুই। ঠিকানা মিলিয়ে যেতে গিয়ে কেমন অন্যরকম লাগছে। বড় রাস্তা থেকে গলি। ক্রমশঃ সংকীর্ণ। যেন শেষ নেই। মোবাইলে ফোন করে বার দুয়েক পথ নির্দেশ নেওয়া হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত পুরোনো বাড়িটার সামনে। বড্ড অপরিচ্ছন্ন পথঘাট। লোকজনও কেমন যেন। বাইরের লোক যে এই গলিতে কাদাচিৎ, তা পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া বা বাড়ির সদরের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ে পুরুষের মুখের ভাবেই স্পষ্ট। এই বাড়িরই তিনতলা। গেট হয়তো ছিল কোনকালে। এখন শুধু দুটো খাম্বার মাঝে বিশাল হাঁ।

যেন কোন প্রাগৈতিহাসিক সারমেয় হাঁকরে লালা ঝলাচ্ছে। বাইরের রাস্তা মাঝ দুপুরের রোদে পুড়ছে। এই ফেব্রুয়ারির প্রথমেই। আর সেই রোদের সবটুকু শুষে নিয়েছে পুরোন ইট বার করা বাড়ির দেওয়াল, দেওয়ালে গজিয়ে ওঠা। বট, অশ্বত্থ, গেটের ফোঁকরের ধারের বুনো তুলসি আর অতসী। ধুলোপড়া সেই ধুলোর আস্তর ফুঁড়ে ঢুকে যাচ্ছে রোদের তাত। ক্ষুধার্ত গাছগুলো পেট ভরাচ্ছে। ফুটপাথে তোলা উনুনে ও মাটির হাঁড়িতে ফুটছে কি সব। গন্ধটায় গা গুলিয়ে উঠলো। অথচ তার পাশেই বসে আধা উলঙ্গ ছেলেমেয়ে বুড়ো বুড়ি লালা ঝরাচ্ছে। ফুটপাথের কথাটা অপ্রাসঙ্গিক। আলো অন্ধকারের হিসেব চলছিল। আলোর সবটুকু প্রাচীন অট্টালিকার প্রস্তর গাত্রের ভোগে। সে কারণে ভিতরটা অন্ধকার।

সিঁড়িটায় উঠতে ভয় করে এত অন্ধকার। মোবাইলের আলোয় তিনতলা। একবার ল্যান্ডিং-এ পৌঁছে গেলে এতক্ষণের পরিবেশের সঙ্গে যেন সম্পর্কই নেই কোন। যেন এই বাড়িটাই নয়। পাথরের দেওয়াল। ইচ্ছে করেই এবড়োখেবড়ো মতো। দরজার চওড়া পান্না জুড়ে যত্নে লালন করা শুল্ম আর লতানে গাছ। সব অচেনা।

ঝাঁঝালো গন্ধ। এক পাশে বিরাট একটা জল রাখার জালার মতো পাত্র। সে পাত্রের গায়ে অচেনা চিহ্নাদি। অবলুপ্ত কোন পুরোন লিপির হরফ আঁকা। সিঁড়ির রেলিংয়েও লতিয়ে উঠেছে লতাপাতা। দরজা খুললেন যিনি মুখটা চেনা। ইন্টারনেটের সাইটে এনার নানা ছবির সঙ্গে গতকদিনে পরিচয় হয়ে গিয়েছে।

ক্রমশ ………