প্রবীর আচার্য

৩য় পর্বের পর …….

বড়ো বড়ো বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো লবণের ব্যবসাতে লগ্নি শুরু করলো। যেসব জায়গায় ভূনিম্নস্থ জলস্তর লবণের ঘনত্ব বেশি সেখানে নলকূপের সাহায্যে জল তুলে সিমেন্টের পাকা মেঝেতে শুকোবার ব্যবস্থা

করলো। মাটির তলার স্বচ্ছ জল পাকা মেঝেতে রোদ বাষ্পীভূত হওয়ার পর নিচে পড়ে থাকে বিশুদ্ধ সাদা কেলাসিত লবণ। তাকে চকচকে মাড়কে ভরে ব্যবসাদাররা পরিশুদ্ধ লবণ বলে বিজ্ঞাপিত করতে লাগলো। আসল মাটির তলার জল প্রাকৃতিক ভাবেই পরিশুদ্ধ, তাকে আর কৃত্রিমভাবে পরিশুদ্ধ করার প্রয়াজন হয় না। এদিকে ‘ডবল রিফাইন, ট্রিপল রিফাইন বিজ্ঞাপনের ঢাক মানুষকে আকৃষ্ট করত লাগলো। ফলে খাড়ি নুনের বাজারে ধীরে ধীরে ভাটা পড়তে লাগলো। খাড়ি নুন বাজার থেকে বিদায় নিল, নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটে গেল। ডাণ্ডি অভিযান, লবণ আন্দোলনের মতো— কোনও কিছুই ঘটলো না।

কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল আয়োডিন ঘটিত থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ মানুষের মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। সমীক্ষায় জানা গল, নতুন পদ্ধতিতে তৈরি লবণের মধ্যে আয়াডাইড লবণের ঘাটতি রয়েছে। আয়োডিন আমাদের থাইরয়েড গ্রন্থির বিকাশে সাহায্য করে। এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। তখন ওই ব্যবসাদারি সংস্থাগুলো নতুন করে লবণের সঙ্গে পটাশিয়াম আয়োডাইড মেশাতে শুরু করলো। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল বিজ্ঞাপন প্রচার, আয়োডিন মিশ্রিত লবণ খান। আয়োডিন মিশ্রিত লবণের দামও গেল বেড়ে। কিন্তু কেউ বিচার করে দখলো না সমুদ্রের জল থেকে প্রাচীন পদ্ধতিতে তৈরি লবণে এমনিতেই আয়োডিন থাকে, নতুন করে তা মেশাতে হয় না। বিজ্ঞাপন বড়ো বালাই।

ক্রমশ……