সজল কান্তি দাশ গুপ্ত
প্রথম পর্বের পর……
ভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলের কত পতাকা লাগানো হয়। লক্ষ্য লক্ষ্য পতাকায় ছেয়ে যায় সারা রাজ্য। কয়েক লক্ষ মিটার কাপড় বিক্রি হয়। আয় বাড়ে কাপড় বিক্রেতাদের। তারপর সেই কাপড় গুলোতে ছাপাতে হয় বিভিন্ন দলের প্রতীক। কাজ রাড়ে টেক্সটাইল প্রিন্টিং এর, কাজ রাড়ে দরজিদের। যারা পতাকা গুলোকে মাপ মতো সেলাই করে। পতাকা লাগাতে যে লাঠি ব্যবহার করা হয় তার সংখ্যাও কম নয়। বিক্রি হয় অনেক বাঁশ, কাজ পায় অনেক কাঠের মিস্ত্রী।
ভোটের প্রচারে যে মিটিং-মিছিল হয় তাতে ভাড়া করা হয় বহু লরি, ম্যাটাডোর, রিকশা-ভ্যান। এই কর্মহীনতা যুগে নতুন করে কাজ পায় এইসব গাড়ির চালক ও সহযোগীরা। এইসব গাড়িগুলির মালিকদেরও আয় বাড়ে। রিকশা-ভ্যান ও অটোচালকদের ভোট প্রচারে ভূমিকা কিন্তু কম নয়, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে।
ভোটের প্রচার এর জন্য যে বড় বড় মিটিংগুলো হয় সেখানে তৈরি করা হয় বড় বড় স্টেজ। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা সমতুল্য হেভিওয়েট নেতাদের মিটিংয়ে স্টেট সমেত যে কাঠামো তৈরি করা হয় তা আকারে যেমন বড় করা হয়, তেমনি হয় মজবুত। খরচ হয় প্রচুর অর্থ। এই স্টেজ ও কাঠামো নির্মাণে সাথে যুক্ত বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয় এই উপলক্ষে। ভোটের দিন বহু অঞ্চলে তৈরি করা হয় সামরিক কাঠামো, কাজ পায় স্থানীয় প্যান্ডেল কর্মীরা।
ছোট-বড় বিভিন্ন মিটিংয়ে জমায়েত হয় বহু মানুষ। সেই সাথে যুক্ত হয় বহু লজেন্স বিক্রেতা, বাদাম বিক্রেতা, চা বিক্রেতা, আরো আরো অনেকে। এক একটি মিটিংকে কেন্দ্র করে তাদের বিক্রি হয় ভালোই। আয় বাড়ে গরিব খেটে খাওয়া মানুষগুলোর। ভোটের জন্য আরেকটি জিনিস এর চাহিদা বেড়ে যায়। সেটা হলো মাইক। প্রতিটি মিটিংয়ে মাইক এর প্রয়োজন হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে ভোট যুদ্ধে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক নেতারা গরিব মানুষদের জন্য কিছু করুক বা না করুক, ভোটকে কেন্দ্র করে মিটিং-মিছিল, প্রচারে বহু কর্মসংস্থান হয়। যার ফলে গরিব খেটে খাওয়া মানুষদের সাময়িকভাবে আয় বৃদ্ধি হয়, তাদের মুখে ফোটে হাসি।
সমাপ্ত……
