গৌতম দে

তৃতীয় পর্বের পর……..

—শুনলি তো সব কিছু। রোববার কলকেতা যাতিহবে। মিটিন আচে।– সে তো আমিও শুনলাম। বকেয়া টাকার কথা বললে না কেন?মালতির এই প্রশ্নে সুখেন কিছু বলে না। অনেক টাকা বাকি আছে। এটা ঠিক কথা। তা বললেও কিছুতেই দিতে চাইবে না এখন। এটাও ঠিক। এভাবে সরকারের ঘর থেকে কত লোকের টাকা নিজের পকেটে ভরে রেখেছে রানা দুবে। না চাইলে কিছুতেই দিতে চায় না।

তাও অর্ধেক

দেয়। পুরোটা নয় কেন? বললে অমনি দাঁত খিঁচিয়ে ওঠে। বলে, পার্টির ফান্ডে যাবে। পার্টি তোদের অ্যাত উপকার করছে, পার্টির চাঁদা দিবি না! আমরাও দি বুঝলি?

এরপর আর কিছু বলার থাকে না সুখেনদের। মালতিও জানে সেসব। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে মুখ ঝামটা দিয়ে ওঠে, হে ভগবান, মরণ হয় না কেন তোদের…!

আজ সেই দিন। বিশাল জমায়েত ময়দানে। গ্রামের অনেকেই আগের দিন ট্রেনে করে চলে গেছিল। শুনেছে শিয়ালদা আর হাওড়া স্টেশনে দুদিন ধরে ম্যারাপ বাঁধা আছে। মাইক বাজছে সর্বক্ষণ। গান হচ্ছে কত রকমের। হিন্দিতে। কখনও-বা বাংলায়। জেলার নেতারা মাঝে মধ্যে বক্তৃতা দিচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে মানুষ ট্রেন থেকে নেমে মিছিল করে এখানে জমায়েত হচ্ছে। তারপর সেখান থেকে যুবভারতী স্টেডিয়ামে। ওখানে থাকা খাওয়ার বিশাল আয়োজন হয়েছে। রমরম করে চিকেন বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে। সপাটে কবজি ডুবিয়ে খাও। আর কি চাই!…………

ক্রমশ………