শ্রেয়া ঘোষাল

অষ্টম পর্বের পর……..

……. তোমারা শুধু শপিং মলের কাজটাই দেখলে। ওর গান, কিছুনা সেটা? ঠিক আছে তোমাদের কাছে কিছুনা। বাট আমার কাছে ওটাই সব। একদিন দেখবে গোটা শহর কাঁপবে ওর গানে। বেশ ততদিন ওয়েট করবো আমরা। কতদিন?

বল সু কতদিন? এক বছর? পাঁচ বছর? অ্যাবসার্ড কথা বলো কেন? এভাবে বলা যায়? তার মানে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হবে?

সু কোমল তেড়িয়া হয়ে উঠে গেল। কত বয়স কত ওর? আমার থেকে এক বছর ছোট। ও বাবা সব দিকতো দেখছি সোনা বাঁধানো। পাঁচ বছর পর তোমার বয়স হবে তিরিশ। আরও মাচার ফাংশানে গান গেয়ে বেড়াবে। আর আমরা কম্বল কিনে বলে থাকবো কবে জামাই আমাদের গান গেয়ে কাঁপিয়ে দেবে।

সিম্পল কথাটা বুঝতে চাইছিস না কেন। তোর চাকরি, তোর মাইনে, তোরই এই বাড়ি, তোর বাবার রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট এগুলো মাপছে বসে ঐ মোল্লার বাচ্চা। সু এর চোখ জ্বলছে। নোনা জল গড়াচ্ছে গাল বেয়ে। দুমদুম পা ফেলে নিজের ঘরে ঢুকছে। স্যুটকেস নামাচ্ছে। এলোপাথাড়ি কটা জামা, জিন্স পুরছে ব্যাগে। সুকোমল লাথি মেরে স্যুটকেস উল্টে দিচ্ছে।

সু এর হাত মুচড়ে দিচ্ছে। সু বলছে তোমার নামে ডায়েরি করবো আমি। আমাকে তোমার বউ পাওনি।

আমি এগিয়ে গিয়ে ঠাস করে একটা চড় মারছি মেয়েটার গালে। জীবনে প্রথমবার। টেবিলে পড়ে থাকা পার্সটা নিয়ে বেরিয়ে গেল সু। দরজার কাছে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে থর থর করে কেঁপে যাচ্ছে নাড়ু। বেরিয়ে গিয়েও হাত পা পিছিয়ে এসে ওর পাশের সেই মাথায় গলাটা ঘষে বেরিয়ে গেল। ……..

ক্রমশ……