সরোজ ঘোষ
লতা অনুপস্থিত , গাইলেন মান্না দে
সেবারের পুজোর গান মান্না দে’র সুরে লতাজি গাইবেন, এমনটাই কথা ছিল। সেই গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার দু’টো গান লিখে দিলেন। মান্না দে সুর গান দুটি মঙ্গেশকরকে শোনালেন।
শিল্পীর সম্মতি ক্রমে রেকডিং-এর দিন ধার্য হল। নির্দিষ্ট দিনে স্টুডিওতে সারা সারা রব পড়ে গেল মিউজিশিয়ানরা তটস্থ। রেকডিস্ট তৎপর। উৎকণ্ঠায় উদ্বেলিত স্বয়ং সুরকার। প্রস্তুতি চূড়ান্ত। শুধু শিল্পীর আগমনের প্রতীক্ষা। কিন্তু হায়। ‘দীপ ছিল শিখা ছিল শুধু তুমি ছিলে না বলে আলো জ্বললো না’। অর্থাৎ লতাজি এলেন না।
এরপর আর একটা দিন ঠিক হল। যে দিনও লতার পথ চেয়ে সুরকার ব্যস্ত ব্যাকুল। বেলা গেল পরে প্রহর গুনতে গুনতে। ‘সে তো এলো না এলো না/ বোঝা গেল না’। স্বভাবতই সুরকার ক্ষুব্ধ ও অপমানিত। মান্না দে রেগে গেলে শেষে দেখে ছাড়েন। শুভাকাঙ্খীরা বোঝালেন, লতা মঙ্গেশকর বলে কথা। চাল খোলা না করে তৃতীয়বার চেষ্টা করে দেখাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কে জানত তিন-এ যে ব্রহ্যস্পর্শ। এবারও অধরা। ধরা গেল না তারে সুরের বাঁধনে।
এরপর কি আর করা যায়। লতাজির একটা গান আছে— ‘ভাগ্যে যা লেখা আছে হায়রে/জানি চিরদিন হবে তার মানতে।’ সুরকারের ভাগ্যে ছিল বরাদ্দ গান দুটি, যা কিনা মান্না দে সুরারোপিত এবং স্বকণ্ঠে গীত প্রথম বাংলা আধুনিক গান। ১৯৫৩ সালে পুজোর গান হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। গান দু’টি, ‘কত দূরে আর নিয়ে যাবে বল’ এবং ‘হায় হায় গো রাত যায় গো’।
