প্রসবের সময় ব্যথা কতটা অসহনীয় তা কেবল একজন মা বুঝতে পারেন । ব্যথার সময় মহিলাকে চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব কতখানি, তা সেই মহিলাই বুঝতে পারেন। আর বুঝবে না বা কেন, এটা যে দুই জীবনের প্রশ্ন। কথিত আছে যে, ঈশ্বর কোনো না কোনোভাবে সাহায্যের জন্য তাঁর দূতদের পাঠান, সেটা প্রমাণ করে নদীয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার সঙ্গে সহযোগিতার চেতনার চমৎকার উপস্থাপনা করে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা প্রসব ব্যথায় ব্যথিত মহিলা কে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।

গত ৬ জানুয়ারী ৮৬ ব্যাটালিয়নের সীমা চৌকি দিগলকান্দির কোম্পানি কমান্ডার খবর পান যে ধারা গ্রামের অর্জনা খাতুন প্রসব বেদনায় ভুগছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা কোনও যানবাহন জোগাড় করতে পারে নি। এরপর কোম্পানি কমান্ডার দেরি না করে নার্সিং সহকারী ও মহিলা গার্ড সহ বিএসএফ অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে দেন আরজানা খাতুনের বাড়িতে। সেখান থেকে গর্ভবতী মহিলা তথা পরিবারের সদস্যদের করিমপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে দ্রুত ভর্তি করেন।

গর্ভবতী মহিলার স্বামী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে বিএসএফ সবসময় অভাবী মানুষদের সাহায্য করে।

পাবলিক রিলেশন অফিসার, দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার বলেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের কর্মীরা সবসময় আন্তর্জাতিক সীমান্তে ডিউটি ​​করেন, তা ঝড়-ঝঞ্ঝা হোক, দিন হোক বা রাত হোক। পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসরত মানুষদের সাহায্য করতে তারা সদা প্রস্তুত। যার কারণে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং সীমান্তের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা সবসময়ই সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকে।