সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দ্বিতীয় পর্বের পর……
………….
আমার যৌবনের সাথে অনেক মিল পেয়েছি আপনার লেখার প্রতিটি ছত্রে। আপনার আগের উপন্যাস ‘মেঘ রোদ্দুর ইলিশেগুড়ি’ ও বেশ লেগেছে। বইগুলো পড়তে পড়তে সব সময় মনে হয়েছে আমার এই প্রিয় লোকটির সাথে দেখা হলে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করব। জিজ্ঞেস করব কী করে সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট এত সহজে কলমে তুলে আনেন?”
“ধনঞ্জয়বাবু, আপনি আমি প্রায় সমবয়সী তাই থাক আর প্রণাম ট্রণাম করে কাজ নেই। এবার বলুন আপনি কতদিন এই বৃদ্ধাশ্রমে আছেন। আর কেনই বা আছেন?” “আপনার সময় হবে আমার জীবন কাহিনি শোনার”?
“আপনার অসুবিধা না থাকলে বলুন না। আমি তো আপনার সমব্যথীও হতে পারি।” ধনঞ্জয়বাবু একটু সময় নিয়ে খুব সংক্ষেপেই বলা শুরু করলেন, “আমাদের একটিই ছেলে। ছাত্র খারাপ ছিল না। আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে যেভাবেই হোক ডাক্তার করবই। কিন্তু জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে সরকারি কলেজে সুযোগ করে উঠতে পারেনি। সুযোগ হয়েছিল বেসরকারি কলেজে। কিন্তু তারজন্য আমার সারা জীবনের সঞ্চয় তুলে দিতে হত। তাই দিলাম। ভেবেছিলাম রিটায়ারমেন্টের পরে ঐ টাকা দিয়েই একটা ছোটখাটো বাড়ি বা ফ্ল্যাট করব। কিন্তু তা আর হয়ে উঠল না। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই না করতে পারলেও ছেলেকে তো একটা ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারলাম, সেটাই আমাদের দু’জনের কাছে ছিল সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।”
ধনঞ্জয়বাবু কিছুক্ষণ থামলেন। রুমাল দিয়ে ঝাপসা হয়ে যাওয়া চশমার কাঁচটা একটু মুছে নিলেন। বোঝা যাচ্ছিল চশমা মোছাটা অছিলামাত্র, আসলে তিনি চেষ্টা করছিলেন বুক নিংড়ে আসা কান্নার বেগটাকে থামাতে।
ক্রমশ…. ……
