ডা চন্দ্রগুপ্ত
পঞ্চম পর্বের পর…….
……
পরিকল্পনা মতো কলেজ নির্বাচনের মাস দুই আগে থেকেই দলবল নিয়ে পুলক কলেজের ঠিক সামনের চা দোকানে আড্ডা শুরু করেছে। জমিতে টিকে থাকার এ কৌশল শিখিয়েছিল ওর রাজনৈতিক গুরু, প্রাক্তন বিধায়ক জয়ন্ত বিশ্বাস। যদিও এটা জানে যে বর্তমান শাসক দল লেবার পার্টির বিরুদ্ধে এ লড়াই অসম। গতবারে ২৫০টা আসনে ছাত্র দল পেয়েছিল মাত্র ছটি আসন। কিন্তু রৌনক কলেজে ভর্তি হবার পর থেকে পুরো চিত্রটা পাল্টে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
প্রণব বসুর দল বুঝতে দেরী করে ফেলেছিল যে ছাত্রদল ওদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। রৌনক শুধুমাত্র ব্যবহার ভালো করে নতুন ছাত্র ছাত্রীদের কাছে টানতে পেরেছিল। ছেলেটার অসাধারণ নেতৃত্ব দেবার জন্মগত ক্ষমতা রয়েছে—সাত-আটজন ছাত্র-ছাত্রীর একটি দল এতসব চিন্তা ভাবনার মাঝে পুলকের সামনে এসে দাঁড়ায়। চিন্তার তার ছিঁড়ে ওদের দিকে তাকিয়ে সাবলীল হাসে পুলক, পরক্ষনেই গম্ভীর হয়ে যায়।
কি ব্যাপার তোদের, ক্লাস কি আজকাল চা দোকানে হচ্ছে নাকি। দমফাটা হাসিতে ফেটে পড়ে ছেলে-মেয়েরা। রৌনকও হেসে ওঠে বন্ধুদের সাথে। কমবয়সীদের সাথে এভাবে মেলা মেশার ফলে বাইরের কারো বুঝতে অসুবিধা হবে, যে পুলক কি শিং ভেঙে দলে ঢুকেছে, নাকি এখানো শিং গজায়ইনি। ঝটপট দু-একজন বসে পড়ল বেঞ্চে। ওরা হাসি বন্ধ করলে পুলক বলল, একদম চুপ। ওভাবে দাঁত দেখিয়ে হাসছিল যে! দাঁতে ঠাণ্ডা লাগলে তোদের বাড়ির লোক আমাকে কেলিয়ে পাট বানাবে— কি খাবি বল? একটু চুপ থেকে আবার পুলক বলল, ঘুগনি খা বরং-ক্লাস ক’টায়! পড়াতে ফাঁকি দিয়ে রাজনীতি করিস্ নারে। রিয়েল এডুকেশন না থাকলে কিন্তু ভালো রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না।
ক্রমশ……
