সরোজ ঘোষ

নির্ধারিত শিল্পীর উপস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথ

একবার কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্রকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন তাঁর এক ঘনিষ্ট বন্ধু। আমন্ত্রণের প্রত্যুত্তরে শরৎচন্দ্র বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘ওহে, তোমার ওস্তাদ থামতে জানে তো’। কথাটা শুনে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘শরৎ জব্বর দিয়েছে’। কালচক্রে রবীন্দ্রনাথকে একবার ‘থামতে না জানা’ এক ওস্তাদের গান শুনতে গিয়ে কী অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছি। কী হয়েছিল সেদিন? ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রখ্যাত সংগীত সমালোচক ধূর্জাটি প্রসাদ

মুখোপাধ্যায় ১৯৮৬-র ২০ ডিসেম্বর ‘দেশ’ পত্রিকায় লিখেছিলেন,

একশর কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে ওস্তাদ ইনায়েত খাঁ কণ্ঠস্বরের ক্ষমতা প্রমাণ দেখাচ্ছিলেন। শুধু বাইশটি শ্রুতি নয়, আরও কিছু তার কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত হতে লাগলো। কিন্তু শ্রোতারা ওস্তাদের কণ্ঠস্বরের কেরামতি আর শুনতে চাইল না। মঞ্চে বসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তারা তখন রবীন্দ্রনাথের গান শোনার জন্য চেঁচামিচি শুরু করে দিল। কবি তখন ঐখানে বসে সেই গানটি রচনা করে গেয়ে শোনালেন ‘তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী’। রবীন্দ্রনাথের এই ভূমিকায় শ্রোতারা সন্তুষ্ট এবং শিল্পীও সম্মান্বিত হয়েছিলেন।