চন্দন চ্যাটার্জী
দ্বিতীয় পর্বের পর….
কৃষ্ণপ্রেমের কেমব্রিজের বন্ধু ডাঃ আর ডি আলেকজান্ডারও কৃষ্ণপ্রেমের কাছে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিল। সন্ন্যাস পরবর্তীকালে তার নাম হয়েছিল ‘হরিদাস’।
গুরুসেবা এবং কৃষ্ণবিগ্রহ সেবা ছিল কৃষ্ণপ্রেমের জীবন সাধনার ভিত্তি। দন্তেশ্বর বারনার পাশে যশোদা মাইর মরদেহ ভষ্মীভূত হবার পরে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন কৃষ্ণপ্রেম। পরে গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে যশোদা মাই স্বপ্নে আদেশ দেন, ‘একি গোপাল তুমি এখনো নিদ্রায় রয়েছো ভজন-পুজনের সময় যে পেরিয়ে যায়, ওঠো।— আমি কিন্তু সবসময় তোমার পাশেই আছি।’ ছিল গুরু শিষ্যের সম্পর্ক। এমনই নিগূঢ়
সাধনা সম্পর্কে কৃষ্ণপ্রেমের ধারণা ছিল খুব স্পষ্ট। ধর্ম অথবা যোগ যে নামেই আত্মিক সাধনাকে অভিহিত করা হোক না কেন, তার অর্থ কিন্তু একটিই। ধীরে ধীরে দেহ সম্পর্কে নির্বিকার হয়ে উঠছিলেন এই মহাসাধক। হুক ওয়ার্ম তার শরীরে কষ্ট দিচ্ছে, কিন্তু তিনি নির্বিকার। ১৯৬৫ সালের ১৪ নভেম্বর কৃষ্ণপ্রেমকে তার প্রতিক্ষিত ক্ষণে নিয়ে যায়। পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায় তার নরদেহ। রেখে যায় প্রেম, সেবা ও সাধনা।
সমাপ্ত…..
