গৌতম দে

চতুর্থ পর্বের পর……..

এসব অবিশ্যি শোনা কথা সুখেনের। সত্যি মিথ্যে কিনা জানে না সে। যা শুনেছিল তাই মালতিকেও বলেছিল। মালতি অবাক হয়ে জিগ্যেস করেছিল, এইসব খরচাপাতি কি রানাবাবুর?

—আরে বাবা তাই হয় নাকি! সুখেন গড়গড়িয়ে বলেছিল, এসব খাইখরচা হল গিয়ে পার্টির। আর ওদের দায়িত্ব হল লোক আনার। যে যত বেশি লোক আনবে, সে তত বেশি জোরদার মাতব্বর। যেমন আমাদের নিয়ে যাচ্ছে আজ রানাবাবু…।

—এর খরচা কি গভমেন্টের?

—না পার্টির। বকলমে রানাবাবুর।

—তুমি এতো কিছু জানলে কি করে? —না জানার কি আছে! একটু চোখ কান খোলা রাখলে তুমিও জানতে পারবে। এরজন্য লেখাপড়ার দরকার লাগে না। সুখেন খুব স্বাভাবিকভাবেই বলেছিল সেসব। তারপর মালতি আর কোনও প্রশ্ন করেনি।

তো আজ যাচ্ছে সুখেনরা। পরপর দশটা বাস দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়। এই প্রথম রানা দুবে সবুজ পাঞ্জাবি পরেছে। কখনও ডান হাত আবার কখনও বাঁ হাত তুলে তদারকি করছে। এক এক করে অনেকেই আসছে। সবাই সুখেনের চেনা পরিচিত। ওই তো কুন্তিপিসি এসেছে। কুত্তিপিসিকে দেখে অনেকের মত অবাক হয় সুখেনও। বয়স তার কম হয়নি। আশির ওপর তো হবেই। এই বয়সে সেও যাচ্ছে মিটিংয়ে। এখনও কয়েকটা দাঁত ছাগল খোটার মত গালে উঁচিয়ে আছে। সবগুলো পড়ে যায়নি। খনখনে গলায় সে বলে, সেই ছেলেবেলায় একবার সোয়ামির সঙ্গে কোলকেতায় গেচিলুম, এখন আবার যাচ্চি। কি আনন্দ নাই হচ্চে! বলেই একগাল হেসে নেয় কুন্তিপিসি।

ক্রমশ…….