ডা. চন্দ্রগুপ্ত

ষষ্ট পর্বের পর…….

……….. রৌনক পুলককে চোখের ইশারা করতে, ও একটু চেপে বসে রৌনককে বসার জায়গা করে দেয়। গত দু-দিনে কলেজে ঘটে যাওয়া ছোট বড় ঘটনাগুলো বলতে থাকে রৌনক। ছাত্র-সংঘ এবং লেবার পার্টির লোকেরা ছাত্রদলের সদস্য এমনকি নির্দল ছাত্র-ছাত্রীদেরও বোঝাচ্ছে, যাতে তারা নির্বাচনে না দাঁড়ায়। রৌনকের বাড়িতেও ওরা গিয়েছিল।

ফলে বাড়ি থেকে চাপ আসছে। বাড়ির ঘটনা বলার সময় রৌনক পুলকের আরো কাছে চলে এল। এ বিষয়ে রৌনকের বাবা কিছু বলেনি। মা আর দাদা বলছিল রৌনক যেন ছাত্রদলের হয়ে নির্বাচনে না দাঁড়ায়। বাবা বারান্দার ঝুল পরিষ্কার করছিল। ওদের কথার মাঝে এসে শুধু বলেছিল পার্টি করি বলে আমার বেতন, বোনাস, ইন্‌সেনটিভের জন্যে লেভি দিচ্ছি।

পার্টি এত বড় হয়ে রাজত্ব করছে, কিন্তু শাসনতন্ত্রের ফয়দা লুটেছে কালকের ছেলে ছোকরার দল। আমার বাড়ির কেউ দল থেকে কোন সুবিধা নেয়ও নি, নেবেও না।—রৌনককে স্বাধীন চিন্তা করতে দাও, কেন বুঝছ না, যে দলে বন্ধু নির্বাচন করতে হবে পার্টি লাইন মেনে, সে দলের গণতন্ত্রই তো প্রশ্নের মুখে। রৌনককে অবাক করে দিয়ে সেদিন মা-দাদা চুপচাপ সরে গিয়েছিল।এসব ঘটনার বিবরণ এত ধীরে রৌনক বলছিল যে মাঝে মধ্যে পুলককেও রিপিট নিতে হচ্ছিল। কিন্তু পুলকের কানে ঢুকছিল সব, চোখও ঘুরছিল চারদিকে।

তাতেই ধরা পড়ল রাস্তার অন্য দিকে বসে থাকা দুজোড়া চোখের দিকে। অনেকক্ষণ ধরে পুলক ওদের ওপরে নজর রেখেছিল, তাই রৌনককে জোরে বলার জন্যে অনুরোধ করেনি।

শুধু লেবার পার্টির দুই স্পাইয়ের ওপরে দৃষ্টি রেখেছিল। কাউকে বুঝতে দেয়নি। রৌনকের কথা শেষ হলে বেশ জোরেই বলে ওঠে, এই সারাদিন শুধু মেয়েদের গল্প বাদ দে তো, ফোট্। ক্লাসে যা।

ক্রমশ……