গৌতম দে
পঞ্চম পর্বের পর…….
……..
-আমি এই পেরথম। বলে মালতি ছোটটাকে কাছে টেনে নেয়। বাপ ন্যাওটা মেয়েটা মাকে জড়িয়ে ধরে অমনি। বড়টা বাসের জানলার ধারে বসেছে। সেদিকে তাকিয়ে মালতি আবারও বলে, জানলা দিয়ে মুখ বাড়াবি না একদম। মনে থাকে ঝ্যানো…।
ছেলে মায়ের এই কথা পাত্তা দিল না। সে এক মনে প্রকৃতিকে দেখতে লাগল। মাঠের পর মাঠ ধানগাছ মাথা তুলে তাকে যেন টা টা করছে। নারকেল গাছটাকে বাবার মত লাগছে। বাবার চুলগুলো অমনি। বড় বড়। ঝাঁকড়া। নারকেল গাছটাকে দেখে হঠাৎ কেন তার বাবার কথা মনে পড়ল তা বলতে পারবে না। দূরে নীল রঙে ডোবা আকাশ। টুকরো টুকরো সাদা মেঘের দল তাদের মত চলেছে কোথায় জানে না সে। তারাও কি আমাদের সঙ্গে চলেছে! সে অমনি মাকে জিগ্যেস করে, মা আমরা কোথায় যাচ্চি?
—কোলকেতায়।
—সিটা কোথায়?
—জানি না।
—অনেক দূর?
-হুম।
—বাস কখন ছাড়বে? – এই তো এখনই…।
—তোমার কি এই দুটি? কুন্তিপিসি জিগ্যেস করে।
-হ্যাঁ।
-তোমার সোয়ামি আসেনি?
-হ্যাঁ। এসেছে। ওই তো…। বলে মালতি ডান হাত বাড়িয়ে দেখায়। সুখেন ডান দিকের জানলার ধারে বসে বিড়ি খাচ্ছিল। সেদিকে তাকিয়ে মালতি একটু হাসে। ঘোমটাটা আরও একটু টেনে নেয়। ফর্সা নাকের ডগাটা আর লাল ঠোঁটজোড়া দেখা যায়। আজ সে রানা দুরের
দেওয়া দামী লাল শাড়িটা পরেছে। অনেকটা বড়লোকের বউদের মত দেখাচ্ছে।
—তুমি কোন গেরামের মেয়ে বাছা? কুন্তিপিসি আলত করে জিগ্যেস করে। —ঢেঁকিডাঙা গেরামের…।
—ওমা তাই নাকি গো! কুন্তিপিসি অবাক হয়। তারপর আবার বলে, ওটা হল গে আমার বাপের ভিটা। গদাই লস্করকে চিনো?
—না ঠাম্মা।
………. ক্রমশ……
………
