গৌতম দে
ষষ্ট পর্বের পর……
—উনি হলেন গে আমার বাপ। সে বহুকাল আগে মারা গেচে। বলতে বলতে কুত্তিপিসির গলার স্বরে বাদল মেঘের ছোঁয়া লাগে। অনেক কিছু বলতে চায়। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারে না। হাঁ করে বাসের জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকে। তার দৃষ্টি চলে যায় অনেক দূর।
হইহই করে সব বাস নিমেষে ভরতি হয়ে গেল। সবার মধ্যে বিপুল উত্তেজনা। যেন একটা ‘উৎসব’ ‘উৎসব’ ব্যাপার। তারপর এক এক করে বাসগুলো ছাড়তে লাগল। অনেকটা পথ যেতে হবে। কেউ মারল সিটি। তারপর এক এক করে তীব্র সিটিতে মুহূর্তে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠল। এই বিপুল সিটির মধ্যে বন্দেমাতারম ধ্বনি বাদ গেল না।
কুত্তিপিসি বহু বছর পর এই শব্দটি শুনল। শুনে ভাল লাগল তার। মনটা খুশ হয়ে গেল। অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল এই মুহূর্তে…।
ধর্মতলার কাছাকাছি আসতেই সুখেনদের বাসগুলো আটকে পড়ে। শুধু সুখেনদের নয়, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য বাস লরি ম্যাটাডর দাঁড়িয়ে যায়। সবাই হইহই করে নামতে থাকে। তারপর মিছিল করে এগিয়ে যায়। ব্যাপক ভিড় জমে যায়। মানুষে গাড়িতে জটলা। অনেকের কাঁধে পার্টির পতাকা।
সুখেনও বউ ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাস থেকে নেমে পড়ে। চেনা পরিচিত মানুষজনদের আর দেখা যায় না। = সে বউ ছেলেমেয়েকে নিয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটতে থাকে। সুখেনের দুহাতে দুই ছেলেমেয়ে। গটগট করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। মালতি সুখেনের হাঁটার সঙ্গে তাল – মেলাতে পারে না। তার মাথায় ঘোমটা উধাও। শাড়ির আঁচল কোমরে আঁট করে গোঁজা। সে একরকম ছুটে স্বামীর ডান হাতটা চেপে ধরে বলে একটু আস্তে আস্তে হাট না কেনে! ………
……. ক্রমশ……..
