সুব্রত বন্দোপধ্যায়

সপ্তম পর্বের পর…….

ভাবি আজ হয়ত দেখতে পাব আমার ছেলে আমাদের দুজনের ফটো দিয়ে লিখেছে, “বাবা মা তোমরা কোথায় হারিয়ে গেছ, দেখা দাও”। জানেন নাতির সাথে সাথে ওর মুখটাও দেখতে খুব সাধ হয়। ও যে আমার সব কিছু, ও ভুললেও আমি কি করে ভুলতে পারি’। ধনঞ্জয়বাবু মুখ চাপা দিয়ে হাউহাউ করে কাঁদছেন। সৌগতবাবু দাঁড়িয়ে উঠে তাকে বুকে

জড়িয়ে ধরলেন। ‘শক্ত হোন দাদা। আপনার ছেলে বুঝতে পারেনি সে কি অমূল্যরতন হারিয়েছে। যেদিন বুঝতে পারবে সেদিন ঠিকই আপনার খোঁজ করবে। সেদিন তাকে আমিই আপনার ঠিকানা বলে দেব।”

সৌগতবাবু গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ভীষণভাবে বিপর্যস্ত লাগছে তাঁকে। বারবার তিনি কেন যেন ধনঞ্জয়বাবুর মুখের সাথে নিজের বাবার মুখের মিল পাচ্ছেন? চল্লিশ বছর আগে এই শাস্তিনীড়েই হারিয়ে যাওয়া বাবার মুখটা কি বারবার লুকিং গ্লাসএ ভেসে উঠছে? না হলে কে বারবার হাত নেড়ে বলছে, বাবু আমি এখানে একা থাকতে পারব না। আমাকে ফেলে রেখে যাস না। বৃদ্ধের মুখটা আয়নায় বারবার ভেসে আসছে আর যেন চিৎকার করে বলছে, বাবু দাঁড়া। যাস না…..!

সমাপ্ত….