বাসবদত্তা

তৃতীয় পর্বের পর…..

আছে জ্যাঠামশায়ের মত এক বটগাছ, সে যেন সব গাছেদের গার্জেন। এমনই গুরুগম্ভীর তার হাবভাব। দুটো ঝুরি তার মাটি ছুঁয়েছে, বাকিগুলো হাওয়ায় সাঁতার কাটছে এখনো। অগুন্তি পাখিদের আস্তানা তার ডালে ডালে। রোজ সকাল সন্ধে কিচিরমিচিরের ঠেলায় মনে হয় কানে তালা ধরে যাবে বুঝি। মাঝে মধ্যে রাতে আসে কয়েকটা পেঁচা। তারা এসেই জানান দেয়। কর্কশ ডাকে চারদিকটা কেঁপে কেঁপে ওঠে।

ওখানকার পুকুরটাতে একদিন দেখে বেশ কয়েকটা পরিযায়ী হাঁস। খুব অবাক হয়েছিল। বাড়ির পাশে পরিযায়ী হাঁস দেখে। এখন জানে, চেন্নাই আর তার আশেপাশে প্রচুর পাখি উড়ে আসে প্রতিবছর। ঘর বাঁধে আর তারপর তাদের ছানাপোনারা বড় হলে আবার হয়ত ফিরে যায় সেই দূরের দেশে। এছাড়াও নাকি আসে হাজারে হাজারে অলিভ রিডলি কচ্ছপ, ডিম পাড়তে এখানের সমুদ্রকুলে। তাদের পরিচর্যা করে ডিম ফুটে বেরনো ক্ষুদেগুলোকে একটু বড় করে সমুদ্রে ছাড়ে বেশ কিছু সেচ্ছাসেবী সংস্থা।

খুব ইচ্ছা করে তৃণার এসব দেখতে। নীলাদ্রি তো এসবে কোনো আনন্দই পায় না। সমুদ্র এ বাড়ি থেকে দু কিলোমিটারও না। কিন্তু বিতান কে নিয়ে যাবে কিভাবে? ওকে ফেলেই বা কিভাবে যায়! একা কি সবকিছু পারে!

একদিন সমুদ্র দেখাতে নিয়ে গেছিল ছেলেটাকে। কত বাচ্চা খেলছে বালিতে। কেউ কেউ বাধানিষেধ না মেনে ঝাঁপাচ্ছে জলে। সেগুলো দেখেই কিনা জানে না, এক মুহূর্তের জন্য বিতানের চোখটা জ্বলে উঠেই নিভে গেল আবার। কদিন ধরেই বাড়ির পিছনের অগোছালো বাগানে তৃণার নজর কেড়েছে এক কাকের বাচ্চা আর তার মা।

ক্রমশ…….