ডা চন্দ্রগুপ্ত
দ্বিতীয় পর্বের পর…..
রাজগৃহ নগরে শ্রীমতি নামে এক গণিকার প্রতি এক তরুণ ভিক্ষু আসক্ত হয়ে পড়েন। সংঘে ফিরে এসেও ভিক্ষুর মনে ওই গণিকার প্রতি আসক্ত থেকেই গিয়েছিল। ব্যাপারটা তথাগত বুদ্ধের নজর এড়ায়নি। কিছুদিন পরে আকস্মিক ওই গণিকার মৃত্যু হয়। রাজ্যের প্রথা অনুসারে গণিকার সৎকারকার্য রাজাই করিয়ে থাকেন। কিন্তু বুদ্ধের অনুরোধ গেল সম্রাট
বিম্বিসারের কাছে। যাতে সৎকার কার্য কয়েকদিন স্তগিত রাখা হয়।
কয়েকদিন পরে ওই আসক্ত ভিক্ষু সহ দলবল নিয়ে – মৃত শ্রীমতির বাসগৃহে গেলেন বুদ্ধদেব। সম্রাট বিম্বিসারও এলেন। দেখা গেল যে মৃতদেহ পচন ধরেছে এবং সেখানে কিট কিলবিল করছে। বুদ্ধদেব বিম্বিসারকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এই গণিকার দেহের জন্যে মানুষ কত টাকা দেবে এখন? বিম্বিসার উত্তর দেন যে, এই দেহে অর্থ দেওয়া তো দূরঅস্ত কেউ স্পর্শও করতে চাইবে না।
বুদ্ধদেব তখন ভিক্ষুদের বললেন যে, ‘এই দেহের প্রতি মানুষের যে আকর্ষণ ছিল তার এই করুণ পরিণাম। দেহের বিনাশ এভাবেই হয়। তাই তোমরা ইহলোকের আনিত্যতা উপলব্ধি করার চেষ্টা কর।’
এভাবেই তিনি দুঃখময়তা ও বিনাশশীলতার কথা ভক্তদের অন্তরে প্রবেশ করিয়ে দেন। কারণ তিনি বুঝেছিলেন যে জরা-ব্যাধি এবং মৃত্যু থেকে কারো মুক্তি নেই।
সমাপ্ত…..
