মাসুদ করিম (বাংলাদেশ)
শেখ হাসিনার সফর কাভার করতে ২০১০ সালে দিল্লি গিয়েছিলাম। সেটাই ছিল ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। ৫০ দফার চুক্তি সই হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। তারপর আরও কয়েকবার ভারত গেছি। ভারতের বিভিন্ন সময়ের শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ সফর করেছেন। কিন্তু দুই দেশের জনগণের সম্পর্কের রোডম্যাপ পুনরায় ওই সফরেই হয়েছিল। মুক্তযুদ্ধের মাধ্যমে সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারিত হয়েছিল অনেক আগেই। মাঝে অনেক বছর ছিল লাইনচ্যুত। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রকৃত গতিপথ কী তা অনুধাবনে আমাদের পিছনে ফিরে তাকাতে হবে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পড়শি ভারতের বন্ধুদের জীবন বিসর্জনের ইতিহাস রক্তের অক্ষরে লেখা। যুদ্ধ-বিগ্রহে নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের ঘটনা বিরল নয়। কিন্তু বন্ধুত্বের টানে, ভালবাসার আকর্ষণে প্রতিবেশি হয়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করার ঘটনা সত্যি মোহিত করে। শরতের আকাশেও মাঝে মাঝে কালো মেঘ জমে; সময়ের ব্যবধানে আবার নীলাকাশে ভাসে সাদা মেঘের ভেলা; প্রকৃতির মতোই ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্কের মধ্যেও ক্ষণিকের মরুভূমির শুদ্ধতার পর আবার পুষ্প-পল্লবে ভরে ওঠে। ফলে রক্তের অক্ষরে লেখা যে বন্ধন তা কখনও ছিন্ন হয়না।
ভারতের আপামর জনগণের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ওই বছরের ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে রাজধানী ঢাকায় অতর্কিত হামলা চালায়। গণহত্যা করে, হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। পুরনো ঢাকার শাঁখারিবাজারে লুট করে স্বর্ণালঙ্কার, ধর্ষণ করে, মুছে দেয় সিঁথির সিঁদুর। বাংলাদেশের মানুষের জীবনে এমন কঠিন দিন আর আসেনি। ওইসব চরম সময়ে ভারতের যেসব পরম বন্ধু আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন; তাঁরা শুধু কৃতজ্ঞতার বাঁধনেই আবদ্ধ করেননি; বরং আমাদের দুই বন্ধুপ্রতীম জনগণের সামনে পথ চলার গতিপথও দেখিয়ে যান।
