ওয়েবডেস্ক, ২৭মে, কলকাতা: কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে গৃহীত প্রয়াসগুলিকে আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় সরকার গত 2 এপ্রিল আরোগ্য সেতু মোবাইল অ্যাপ সূচনা করেন। উদ্দেশ্য ছিল, ব্লুটুথ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য আক্রান্তদের হদিশ পাওয়া, সংক্রমণের উৎস কেন্দ্রগুলির মানচিত্র নির্মাণ এবং কোভিড-১৯ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। আজ পর্যন্ত ১১ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি ব্যবহারকারী এই অ্যাপ ডাউন লোড করেছেন। বর্তমানে বিশ্বে যে ক’টি কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ চালু রয়েছে, তার মধ্যে আরোগ্য সেতু অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে। দেশে ১২টি ভাষায় এই মোবাইল অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস প্রভৃতি প্ল্যাটফর্ম থেকে ডাউন লোড করা যাচ্ছে। নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা এর মধ্যেই এই অ্যাপকে বডিগার্ড বা দেহরক্ষী হিসাবে গণ্য করছেন। এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা বজায় রাখার পাশাপাশি, ভারতের ওপেন সোর্স সফট্‌ওয়্যার বা সর্বজনীন সফট্‌ওয়্যারের সহজেই নাগাল পাওয়ার যে নীতি রয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আরোগ্য সেতুর সোর্স কোডটিকে সর্বজনীন করা হয়েছে। এই মোবাইল অ্যাপটি ইতিমধ্যেই অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনে সর্বজনীন করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আইওএস ভার্সনেও সর্বজনীন করা হবে। অবশ্য, আরোগ্য সেতু অ্যাপ –এর ৯৮ শতাংশ ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহাত করে থাকেন। আরোগ্য সেতুর সোর্স কোড এ ধরনের অ্যাপ উদ্ভাবনকারীদের জন্য সর্বজনীন করে দেওয়ার মাধ্যমে ভারতের ওপেন সোর্স সফট্‌ওয়্যারের যে নীতি রয়েছে, তার অঙ্গীকারের বিষয়টিকেই প্রতিফলিত করে। উল্লেখ করা যেতে পারে, আরোগ্য সেতু অ্যাপের উদ্ভাবন সরকার, শিল্প সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ। এই অ্যাপ উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মেধাবী তরুণ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দিবারাত্রি কঠোর পরিশ্রমের সুফল মিলেছে। জনসমক্ষে এই অ্যাপটির সোর্স কোড সর্বজনীন করার ফলে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মেধাবী যুবকদের সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: পি আই বি