ওয়েব ডেস্ক; কলকাতা, ৩১ ডিসেম্বর : কথায় আছে, সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার। এই বছর গঙ্গাসাগর মেলার ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিমাণে তীর্থযাত্রী আসতে পারেন সেই আশা করছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন । এবং সমস্ত বিষয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন কোনভাবেই ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রাখতে রাজি নন।

গত ২০২৫ এর শেষ দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা , জেলা সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

২০২৬ গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হচ্ছে ৮ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত। পুণ্য স্নানের সময় ১৪ জানুয়ারি দুপুর ১:১৯ থেকে ১৫ জানুয়ারি দুপুর ১:১৯ পর্যন্ত ।

জেলাশাসক বলেন, মেলাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য আমরা সমস্ত রকম ব্যবস্থা নিয়েছি। পর্যাপ্ত ওয়াটার এম্বুলেন্স সহ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। তার সাথে কাকদ্বীপ ও ডায়মন্ড হারবার হসপিটাল এবং এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালকে জরুরি ভিত্তিতে তৈরি রাখা হচ্ছে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঁচটি অস্থায়ী হাসপাতালসহ একটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যার প্রতিটি নামখানা, লট-৮, কচুবেড়িয়া, চেমাগুড়ি এবং গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণে অবস্থিত এবং মোট শয্যা সংখ্যা ১২৫টি। এছাড়াও, পথে অবস্থিত হাসপাতালগুলিতে আরও ৪১৫টি শয্যা নির্দিষ্ট করা হচ্ছে, যা মিলিয়ে গঙ্গাসাগর মেলার জন্য মোট ৫৪০ শয্যার স্বাস্থ্য সুবিধা সংরক্ষিত থাকবে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ১টি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, ৩টি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এবং ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে। সাগর ও লট-৮-এ পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্যারামেডিক ও নার্সদের নিযুক্ত করা হবে। রোগীদের স্থানান্তরের জন্য একটি গ্রিন করিডোর উপলব্ধ থাকবে। উল্লেখ্য যেহেতু এবার পূর্ণার্থী অনেক বেশি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে তার জন্য এক কোটি জলের পাউচ মজুত রাখা হচ্ছে।

বিগত মেলাগুলিতে যেভাবে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা রেখেছিলেন, ঠিক একই রকম ভাবে এইবারের মেলাতেও সেই সমস্ত ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে। কালীঘাট , তারাপীঠের মতন তীর্থস্থান গুলির মন্দিরের আদলে অস্থায়ী মন্দির গড়ে তোলা হবে গঙ্গাসাগরে, এর ফলে দূর দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীরা সেগুলি দর্শন করতে পারবেন।

এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ , স্বেচ্ছাসেবক থাকছে, তার সাথে সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মধ্যেও নজরদারি চালানো হবে।
অতিরিক্ত বাস চালানো হবে। ২৫০০র ও বেশি বাস এবার উন্নতিদের বিভিন্ন রেল স্টেশন বাসস্ট্যান্ড থেকে গঙ্গাসাগরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকছে। ২১ টি জেটি , 13 টি বার্জ, ৪৫ টি ভেসেল থাকছে এবছর।

রিয়েল টাইম ট্রাকিংয়ের জন্য ১২০০ বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি থাকতে চলেছে এই বছর। এছাড়া কুড়িটি ড্রোন থাকবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলিতে।

২৫০০ এরও বেশি সিভিল ডিফেন্স ভলেন্টিয়ার, ১৮ টি টেম্পুরারী ফায়ার স্টেশন। পূর্ণ্যার্থীদের সাহায্য করতে ১৫০ এর বেশি এনজিও ১০ হাজারের মতন স্বেচ্ছাসেবক থাকতে চলেছে এই বছর। ভাই এবং অস্থায়ী মিলিয়ে বারো হাজারেরও বেশি মোবাইল টয়লেট থাকছে।