ডিজিটাল; চন্দ্রিমা চৌধুরী: চিয়া সিড স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর মধ্যে একটি।এই বীজগুলো স্বভাবত বেশ স্বাস্থ্যকর এবং একটি সুপারপফুড হিসেবে বিবেচিত।এগুলি উচ্চ মাত্রায় পুষ্টিকর।মূলত চিয়া সিড একধরনের শস্য দানা।
চিয়া সীডের স্বাদ অনেকটা পুদিনা পাতার কাছাকাছি। চিয়া সীড দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি কালো বর্ণের অন্যটি শ্বেত বর্ণের। ছোট আকৃতির এই বীজটির খাদ্যমান বেশ উচ্চমাত্রার।
আসুন জেনে নিই চিয়া সিডের কিছু উপকারিতাঃ
চিয়া সিড অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুরঃ
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টই কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলবে। আপনার মুখে, চোখে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করবে, ত্বক রাখবে তকতকে আর চুল রাখবে চকচকে। আশঙ্কা কমাবে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগেরও।
প্রায় সবটুকু কার্বই ফাইবারঃ
চিয়া বীজে থাকা শর্করার প্রায় সব টুকুই ফাইবার। রোজকার ডায়েটে চিয়া বীজের গুণেই আপনার খিদে কম পাবে, পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, পটি হবে নিয়মিত। পরোক্ষ ভাবে তরতরিয়ে ওজন কমবে আপনার!
রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেঃ
আপনার ডায়েটে চিয়া বা সিয়া বীজ অন্তর্ভুক্ত করে আপনি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।চিয়া বীজের মধ্যে থাকা ফাইবার বা তন্তু আপনার রক্তের মধ্যে শর্করার শোষণ হওয়াকে হ্রাস করতে পারে এবং এটি স্থিতিশীল রাখতে পারে, যার ফলে টাইপ 2 ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মত ঝুঁকিগুলিও হ্রাস পায়।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎসঃ
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উপকারেই অবসাদ কমবে, ঘুমের সমস্যা কাটবে, ভালো থাকবে হৃদযন্ত্র! জানতেন কি, মাছ-বাদাম-ফ্ল্যাক্স সিডের সাথে সাথেই চিয়া বীজেও আছে বহুল পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড?
মিলবে উচ্চমানের প্রোটিনঃ
যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁদের জন্য প্রোটিন ভরা খাবার-দাবার খুঁজে পাওয়া সত্যি কঠিন। চিন্তা নয়, চিয়া বীজ আছে তো! ২ টেবিল.চামচ চিয়া বীজেই ৪ গ্রাম প্রোটিন পাবেন আপনি। ওটসের সাথে মিলিয়ে খান, জমে যাবে জলখাবার!
ক্যালসিয়ামের ভাল উৎসঃ
জেনে অবাক হবেন, অধিকাংশ দুগ্ধজাত প্রোডাক্টের চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে চিয়া সিডে। যদি দুধ খেতে না পারেন তবে খান চিয়া সিড।রোজ ইয়োগার্টের সাথে মিলিয়ে খেতে পারেন, শরীর-স্বাস্থ্য থাকবে সুন্দর।
রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করেঃ
আপনার দেহে লোহিত রক্তকণিকা তৈরীর জন্য প্রয়োজন হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রণের।আপনার সারা দেহে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য লোহিত রক্তকণিকা প্রয়োজন।সুতরাং, অবশ্যই আপনার আয়রণ গ্রহণ করার পরিমাণ বাড়ানো উচিত। চিয়া বীজগুলি আয়রণের একটি দুর্দান্ত উৎস। গর্ভাবস্থায় আয়রণের ঘাটতি জনিত রপক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই এগুলিকে আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
চিয়া সিডের ব্যবহারঃ
চিয়া বীজের নিরপেক্ষ স্বাদের কারণে এটা সব ধরনের খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার উপযুক্ত।
চিয়া সিড সরাসরি যে কোন ফলের স্মুদি বা জুস, মিল্কসেক, লেমনেড বা যেকোনো ড্রিংকস, শরবত, ফালুদা, পুডিং,কাস্টার্ড, পায়েস, সালাদ ড্রেসিং, টকদই, ওটমিল বা হোল গ্রেইন সিরিয়াল, পাস্তা, প্যানকেকসাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। শুধু পানিতে মিশিয়েও পান করা যায়। বেক করা খাবার (বিস্কুট, কেক ইত্যাদি), সুপ, সালাদ ইত্যাদির সাথে মিশিয়েও চিয়া সীড খাওয়া যায়।
লেখা – ইণ্টারনেট সংগৃহীত
