দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ার, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা বিগত কিছু সময় ধরে চোরাকারবারিদের চোরাচালানের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে বিএসএফ চোরাচালানের দৃষ্টিকোনে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় ভারী দায়িত্ব পালন করছে এবং চোরাকারবারীদের পরিকল্পনা ক্রমাগত বানচাল করা হচ্ছে। গত ৪ জানুয়ারি দুটি ঘটনায় ৩১৪৭.৫১ গ্রাম সোনার ১৭টি বিস্কুট ও ১টি সোনার বারসহ ৩ জন পাচারকারীকে হাতেনাতে ধরা হয়। বাজেয়াপ্ত করা সোনার বিস্কুটের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.৫ কোটি টাকা। চোরাকারবারীরা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে সোনার বিস্কুট বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনার চেষ্টা চলছিল ।
প্রথম ঘটনায়, ৪ জানুয়ারী বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে, আইসিপি পেট্রাপোল, ১৭৯ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে একটি অভিযান চালায় । বেলা আনুমানিক সোয়া ১২ টা নাগাদ জওয়ানরা একটি বাইকে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আইসিপির ভিতরে রেল ক্রসিংয়ের কাছে আসতে দেখে যারা কার্গো কমপ্লেক্সের দিক থেকে পেট্রাপোল বাজারের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জওয়ানরা তাদের থামিয়ে তল্লাশি করলে পাচারকারী হঠাৎ পালানোর চেষ্টা করলেও প্রস্তুত জওয়ানরা তাদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ধরে ফেলে। বিএসএফ জওয়ানরা আধুনিক যন্ত্রপাতির (মেটাল ডিটেক্টর) সাহায্যে তল্লাশি করলে তাদের কাছ থেকে ( ১৫ টি সোনার বিস্কুট এবং ০১ সোনার বার ) ২.৯১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। জওয়ানরা সমস্ত সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাচারকারীদের হেফাজতে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারীর পরিচয় ১) জাকিরুল গাজী, বয়স- ৩২ বছর, গ্রাম- জয়পুর, থানা- বনগাঁ, জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ
২) মো. বাচ্চু খান, বয়স- ৪৬ বছর, গ্রাম- গাজীপুর, থানা- বেনাপোল, জেলা- যশোর, (বাংলাদেশ) হিসেবে সনাক্ত করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী জাকিরুল গাজী জানায়, সে ৫ বছর আগে রপ্তানিকারক হিসেবে কাজ করত এবং বর্তমানে ফরোয়ার্ডিং এজেন্টের লাইসেন্স তৈরির কাজ করছে। সে আরও জানায়, বেনাপোলের বাসিন্দা বাংলাদেশি নাগরিক মো. সোহেলের সাথে মিলে সোনা চোরাচালানের কাজ করে এবং তা বনগাঁর বাসিন্দা রমেশের কাছে বিক্রি করে, যার জন্য সে প্রতি পাচারের জন্য ১০,০০০/- টাকা পায়। আজ সে বাচ্চু খানের (বাংলাদেশী ট্রাক চালক) সহায়তায় সোনা আনিয়েছিল যা আইসিপি থেকে বনগাঁ যাওয়ার সময় রেল ক্রসিংয়ে বিএসএফ জওয়ানদের হাতে সোনার বিস্কুটসহ ধরা পড়ে।
অন্য একটি ঘটনায়, ৪ ঠা জানুয়ারী, বিকাল আনুমানিক পৌনে ৫ টা নাগাদ, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে, ১৫৩ ব্যাটালিয়ন এর জওয়ানরা একজন কালো জ্যাকেট পরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখেন যে সাইকেলে করে বাদুড়িয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিল। জওয়ানরা ওই ব্যক্তিকে পিছু করে তাকে থামতে বলে কিন্তু সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখে সে দুটি সোনার বিস্কুট রাস্তায় ফেলে দেয় এবং সেখান থেকে দৌড়াতে শুরু করে কিন্তু জওয়ানরা ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে। বাজেয়াপ্ত করা সোনার বিস্কুটের ওজন ২৩২.৫১ গ্রাম। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম শ্যাম সুন্দর অধিকারী, বয়স ৩৪, পিতা-দিনবন্ধু অধিকারী, গ্রাম- সরফরাজপুর গোবর্ধা, পোস্ট অফিস- বাদুড়িয়া, থানা- স্বরূপনগর, জেলা- উত্তর ২৪পরগনা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জানায় সে বলাই মন্ডল ও চন্দন দফাদারের সোনা বহনের কাজ করে। সে জানায়, ২০২২ সালের ০৪ জানুয়ারি দুপুর ০৩টার দিকে সে ০২টি সোনার বিস্কুট চন্দন দফাদারের কাছ থেকে গোবর্ধা মার্কেটের কাছে নেয় যা সায়েস্তনগর পেট্রোল পাম্পের কাছে হাফিজুল দফাদার (বয়স ৪০ বছর, পিতা-জিয়াদ দফাদার) কে দেওয়ার কথা ছিল। সে জানায়, এই কাজের জন্য সে ৫০০ টাকা পেত।
গ্রেফতারকৃত সকল পাচারকারী ও বাজেয়াপ্ত সোনার বিস্কুট পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনসংযোগ আধিকারিক, দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ার ১৭৯ ব্যাটালিয়ন এবং ১৫৩ ব্যাটালিয়ন এর জওয়ানদের কৃতিত্বের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন, যেখানে তারা ০৩ জন চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করে এবং ৩১৪৭.৫৭ গ্রাম সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করে চোরাচালানের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে৷ তিনি বলেছেন যে ডিউটিতে থাকা তার জওয়ানদের সতর্কতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। অফিসার স্পষ্ট করে বলেন, তার জওয়ানদের নজর থেকে কিছুই লুকানো যাবে না। তিনি আরো বলেন, চোরাচালান সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিতে তার একটি চমৎকার টিম রয়েছে।

