ইমদাদুল হক

বিকেলবেলা বাঁশবাগানের ওদিকটায় গিয়েছিল মৌ।

ফাল্গুন মাসের এই সময়টা ভারি সুন্দর। বসন্তকাল। গাছে গাছে ফুল, পাতার রং বদলে গেছে। হাওয়ায় তোলপাড় করে বাঁশবন। একটানা ডাকে কোকিল পাখি। মন উদাস হয়।

উদাস মনে বাগানে ঘুরে বাড়ির দিকে ফিরেছে মৌ। উঠোনের কোণে সন্ধ্যামালতির ঝাড়। পাপড়িগুলো সারাদিন ঘুমিয়ে থাকে। বিকেল শেষ হয় আর জাগে সন্ধ্যা হয় আর গন্ধ ছড়ায়।

উঠোনে এসে সন্ধ্যামালতির গন্ধ পেল মৌ।বারান্দায় দেখতে পেল জরি বসে আছে। হাতে চায়েরকাপ। মা এসময় চা খায়। জরি এসেছে দেখে তাকেও দিয়েছে এককাপ।

মৌকে দেখে হাসলো জরি। তুমি বাড়ি এসেছোশুনেই এলাম। অনেকদিন তোমার সঙ্গে দেখা হয় না। ভালো আছো?

মৌ হাসলো। খুব ভালো আছি। বাড়ি এলেই আমার মন ভালো থাকে।তাই তো থাকার কথা। মা বাবাকে ছেড়ে দূরে থাকতে কার ভালো লাগে! তার ওপর পড়াশোনার চাপ, হলের খাওয়া দাওয়া ভালো না।

ছুটিছাটায় বাড়ি এলে ভালো তো লাগবেই।দুহাতে কাপ ধরে চায়ে চুমুক দিল জরি। সেই ফাঁকে তাকে খেয়াল করে দেখলো মৌ।

পরনে হালকা সবুজ শাড়ি। সাদা লম্বা ওড়নায় গলা মাথা ঢাকা। জরির চোখ খুব সুন্দর। মুখটা বিষণ্ণ। তবু চেহারা যে এক সময় ভালো ছিল বোঝা যায়। গায়ের রংও ফর্সার দিকেই ছিল। রোদে পুড়ে ম্লান হয়েছে।