ইমদাদুল হক
ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ১২
১২ পর্বের পর….
একটু থামলো জরি। তারপর বলল, তবে মেজো রাজকুমার ছিল সবচে’ সুন্দর। তাকালে সত্যি সত্যি চোখ ফেরানো যায় না। এলাকার বউঝি থেকে শুরু করে যুবতী মেয়েরা তাঁকে দেখলে পাগল হয়ে যেতো। জরি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আমিও হয়েছিলাম।
মৌ চমকালো। বলো কী?
হ্যাঁ। হয়েছিলাম বলছি কেন, এখনও হয়ে আছি। মরণ পর্যন্ত থাকবো।
জরির মুখের দিকে তাকালো মৌ। আমি ঠিক বুঝতে পারছি না জরিবু। তুমি মানে তুমি গরিব গৃহস্থবাড়ির মেয়ে আর তিনি হচ্ছেন, মানে তোমার ভাষায় রাজকুমার…
হ্যাঁ, রাজকুমারই তো! বলছি, শোনো ঘটনা। এরকম ফাল্গুন মাস। তখনকার দিনে শীতকালগুলো একটু লম্বা হতো। বসন্ত এসে গেছে তারপরও যে শীত যাচ্ছে না। পদ্মার ওদিকে বিশাল চর। শীতের শুরুতে হাজার হাজার পাখি আসতো চরে। শীত শেষ হতো, বসন্তকাল চলছে তাও পাখিগুলো ফিরে যাচ্ছে না। রাজকুমার পদ্মার চরে, ওদিককার বিলে যেতেন পাখি শিকারে। শীতের শুরু থেকেই শুরু হতো তাঁদের শিকার। কখনও তিন রাজকুমার একসঙ্গে, কখনও দুজন, কাঁধে দোনলা বন্দুক, পরনে বিদেশি শিকারিদের মতো পোশাক, পায়ে রাবারের লম্বা বুট জুতা, সঙ্গে দুচারজন লোকও থাকতো। তারা খাবার বহন করছে, সন্ধ্যাবেলা ফেরার সময় শিকার করা পাখি বহন করছে। বালিহাঁস, চখা, সারস কত রকমের পাখি। সব পাখির নামও জানি না। আর রাজবাড়ির কথা, রাজকুমার আর রাজকন্যাদের কথা বাড়ির লোকের মুখে শুনেছি। রাজবাড়িতে যাইনি কোনওদিন, তাঁদের কাউকে চোখেও দেখিনি। শুধু শুনি আর কল্পনা করি তাঁদের কথা।
