ইমদাদুল হক
ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ১৩
১৩ তম পর্বের পর….
একদিন শেষ বিকেলে আমাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালেন একজন। ওরকম শিকারীর পোশাক পরা, বুটজুতোয় কাদাবালি লেগে আছে। এক কাঁধে বন্দুক আরেক হাতে ঝুলছে শিকার করা পাখি। রোদে ক্লান্তিতে শুকনো মুখ। কিন্তু কী অসম্ভব সুন্দর যুবক। তাঁর আলোয় যেন শেষ বিকেলের আলো হঠাৎ করেই বেশি উজ্জ্বল হয়ে গেছে।
আমাদের গরিব মানুষের বাড়ি। বাবা একেবারেই হতদরিদ্র কৃষক। বড় দুই ভাই বাবার সঙ্গে ক্ষেতখোলায় কাজ করে। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ভাইরা কেউ বিয়ে করেনি। ছোট বোনটা মাটিতে মাত্র হামাগুড়ি দিচ্ছে। আমার পর আরও দুটো ভাইবোন হয়ে মারা গেছে। বাড়িতে তিনটা কুঁড়েঘর। পথের ধারে বাড়ি। বাঁশের ভাঙাচোরা বেড়া আছে। ওই বেড়ার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মানুষটা। আমিই তাঁকে প্রথম দেখলাম। দেখে আর চোখ ফিরাতে পারি না। স্বপ্ন দেখার মতো চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছি। তিনি একপলক আমার দিকে তাকালেন। পানি দাও তো। আমার খুব পিপাসা পেয়েছে।
আমি যেন কথাটা শুনতেই পেলাম না। তাকিয়ে আমি তো তাকিয়েই আছি। এসময় বাবা বেরিয়ে এলেন ঘর থেকে। কে এলো রে? কে কথা বলে?
তারপরই তাঁকে দেখে দিশেহারা? সর্বনাশ! মেজো রাজকুমার আমার বাড়িতে?
ক্রমশ….
