ইমদাদুল হক

পঞ্চম পর্বের পর…..

ফেলে যাওয়া রুমালখানি পর্ব ৫

…….. কোকিলের ডাক বুঝি বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। চাঁদের আলো দেখে আবার ডাকতে শুরু করেছে। এই ডাকে জরি ভুলে গেল কী কথা হচ্ছিল মৌর সঙ্গে। বলল, এই বসন্তকালটা বড় অদ্ভুত, কোকিল পাখির ডাক, চাঁদের আলো সব মিলিয়ে মন খুব উদাস হয়। কত কথা যে মনে পড়ে!

মৌ ঠাট্টার গলায় বলল, কার কথা মনে পড়ে, জরিবু?

জরি উদাস গলায় বলল, পড়ে একজনের কথা। বাদ দাও ওসব। কবিতা শোনাও।

শোনাতে পারি। তবে একটা শর্ত আছে।

কী শর্ত?

যার কথা মনে পড়ে তার কথা আমাকে বলতে হবে। জরি অসহায় গলায় বলল, কোনওদিন যে কাউকে বলিনি!

এজন্যই তো আমাকে বলবে!

একটু থেমে কী ভাবলো জরি, তারপর বলল,

আচ্ছা বলবো। ঠিক?

ঠিক।

এবার তাহলে কবিতা শোনো। কবিতার নাম ‘কুয়ার ধারে’।

তোমার কাছে চাইনি কিছু জানাই নি মোর নাম, তুমি যখন বিদায় নিলে নীরব রহিলাম। একলা ছিলেম কুয়ার ধারে নিমের ছায়াতলে, কলস নিয়ে সবাই তখন পাড়ায় গেছে চলে। আমায় তারা ডেকে গেল, ‘আয় গো বেলা যায়’। কোন্ আলসে রইনু বসে কিসের ভাবনায়।।

কবিতা শেষ না করে মৌ বলল, চলো পুকুরঘাটে গিয়ে বসি। তারপর বাকিটা শোনাই।

ক্রমশ…..