শমিত মন্ডল

ষষ্ঠ পর্বের পর…..

… আজ পূর্ণিমা। সকাল থেকেই পাগলের বিড়বিড়ানি বেড়েছে। চোখদুটোও লাল। সকাল সকাল পাগলকে খাইয়ে দিতে হয়েছে। ঘুম থেকে উঠেই এ খেতে চায়। গরীব মানুষ কেতকী, কী আর খাওয়াবে— রাতের জলঢালা ভাত আর রাতেরই রাঁধা চ্যালা মাছের ঝাল! না,মাছ ওকে কিনতে হয়নি। জেলেপাড়ার কেন্দ্রস্থলে কেতকীর দাদা শঙ্কর জেলের ঘর। শঙ্কর অবশ্য ওর নিজের দাদা নয়, ‘ধর্মদাদা’। কিন্তু নিজের দাদার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। মাঝে মাঝেই মাছ পাঠায়। আজ জামাকাপড়ের সংখ্যা বেশি নয়, তাই কেতকী পাগলকে ঘুরে বেড়াবার ছুটি দিয়ে দিল। ‘বেশি দূরে যেও না কিন্তু’— কেতকীর সতর্ক অনুরোধের উত্তরে পাগল মাথা নেড়ে হাঁটা দিল।

এদিকসেদিক ঘুরে পাগল এবারে বাজারে এল। এত জন মানুষ তাদের কথাবার্তা, হাঁটাচলা, বেচাকেনা— এসব দেখতে ওর ভালই লাগে। বাজারে ঢোকার মুখে সৃষ্টিধরের হাঁড়ি- কলসির দোকান। সে চাকা ঘুরিয়ে তৈরি করছিল দইয়ের ভাঁড়। পাগলকে দেখে সৃষ্টি হাঁক দিল— কীরে কেতি-ধোপানির নাং, কোথায় চললি বাপ?

কুমোরের হাসিতে যে কোনও আন্তরিকতা নেই; এই হাসিতে মিশে আছে কদর্যতা;

অশালীনতার স্থুল প্রলেপ- এসব বুঝতে পারার মতো স্বাভাবিক হয়েছে পাগল। ফলে, সে

কুমোরের সামনে থেকে সরে গেল বাজারের ভিতরে। ভুবন ময়রা অত্যন্ত ক্রোধী হলেও অমৃতি ভাজে খুব ভাল। এখন সকালে সে ওই কাজটাই করছিল। সবেমাত্র প্রথম বারের কয়েকটা অমৃতি সে ভেজে তুলেছে। এখনই কি নজর লাগা ভাল? সে আড়চোখে তাকিয়ে দেখল পাগলের দিকে। তারপরে চেঁচিয়ে উঠলো- এই ছোঁচা, দূর হ এখান থেকে। কিন্তু পাগল এ কথায় কর্ণপাত করল না। সে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল ফুটন্ত অমৃতির দিকে। তার দৃষ্টিতে শিশুর লোভ। অমৃতির কড়াইয়ের দিকে সে এক পা এগিয়ে এল ।

ক্রমশ…..