দ্বিতীয় পর্ব :
১৯৮৭ সাল থেকে ব্যাংক কর্মচারী সংগঠনের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সঞ্জয় দাস । তার এই দীর্ঘ পথ চলা তাকে এনে তুলেছে জাতীয় ক্ষেত্রে। আজ তিনি আইবকের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ব্যাংক কর্মচারীদের আন্দোলন, জাতীয় নীতি সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য, অজানা কথা।
দীর্ঘ সময় ধরে ‘শুভাবরি’ ব্যাংক অফিসার এবং ব্যাংক কর্মীদের আন্দোলনের সংবাদ পরিবেশন করে আসছে একনিষ্ঠভাবে। আজকের এই সাক্ষাৎকার ‘শুভাবরি’র একান্ত উদ্যোগ এবং সঞ্জয় দাস এর একান্ত সহযোগিতা।
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমরা একটি, দুটি বা তিনটি অংশে আপনাদের কাছে পরিবেশন করব। সংবাদ লিখন, সাক্ষাৎকার গ্রহণ সম্বন্ধে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত অবশ্যই আপনারা আমাদের জানাবেন।:
শুভাবরি: ছাত্রজীবনে আপনি তো বাম আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন? কোন সংগঠনের সাথে আপনি ছাত্র আন্দোলন শুরু করেন?
@: হ্যা। কলেজ জীবনে ফোরাম অফ প্রোগ্রেসিভ ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলাম। এটাতে সব রাজনৈতিক মতাবলম্বীরাই ছিল।
শুভাবরি: ব্যাংক কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন এবং চাকরি জীবন, দুটোই বিহারের মাটিতে শুরু হয়েছিল। বর্তমানে আপনি বাংলায় একইভাবে আন্দোলনের সাথে যুক্ত। দুটো ক্ষেত্রের আন্দোলন করার সময় এর সুবিধা-অসুবিধা বা সরকারের ভূমিকা সম্বন্ধে যদি একটু বলেন।
@: বিহারের সঙ্গে বাংলার আন্দোলনের পার্থক্য বলতে যেটা দেখেছিলাম, এখানে মানুষ নেতৃত্বকে যাচাই করে তবেই তার সঙ্গ দেয়। কিন্তু ওখানে দেখেছিলাম মানুষ তার বিশ্বাস থেকে নেতাকে অনুসরণ করে। ভালো কি খারাপ এটা নেতার মাপকাঠি না, অন্তরের বিশ্বাস নেতার ওপর।
আর, সরকারের ভূমিকা বলতে গেলে, ওখানে সরকার অত মাথা ঘামায় না। কিন্তু এখানে মানুষ ও সরকার দুটোই বেশি সচেতন।
শুভাবরি: তাহলে তো বলা যায় যে বিশ্বাস থেকে, নীতি থেকে, মানুষ একটি রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে, তেমন মানুষ রয়েছে বিহারে। অন্যদিকে এখানে মানুষের বিশ্বাস নেতৃত্ব বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক তাই নয় কি?
@: সেটা অনেকটা।
শুভাবরি: ব্যাংক বেসরকারিকরণ, এই বিষয় নিয়ে জানতে চাইবো। যে কয়টি ব্যাংক সরকার অধিগ্রহণ করেছিল তাদের পারফরম্যান্স এবং যাদের অধিগ্রহণ করেনি তাদের পারফরমেন্সের যদি কোন সংক্ষেপে সূচি দিতে পারেন।
@: ১৯৬৯ সালে ১৪ টি ব্যাংক জাতীয় করণ হয়েছিল। ১৯৮০ সালে আরো ৬ টি এর অন্তর্ভুক্ত হয়। সরকার যাদের পারফরম্যান্স ভালো এবং শাখার প্রসার ভালো তাদেরই অধিগ্রহণ করেছিল।
শুভাবরি: পরবর্তীকালে যে সমস্ত ব্যাংকগুলোকে সরকার অন্তর্ভুক্ত করেনি, একজন ব্যাংক কর্মচারী নেতা হিসেবে আপনার মতে এই ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স কি সরকারি অন্তর্ভুক্ত ব্যাংকগুলোর মতোই ছিল, নাকি কম?
@: কম থাকলেও এদেরকে জাতীয়করণ করা উচিত ছিল। আজও জাতীয় স্বার্থে সমস্ত প্রাইভেট ব্যাংকের জাতীয়করণ প্রয়োজন।
শুভাবরি: কিন্তু সে ক্ষেত্রে বড় বড় উদ্যোগপতি- শিল্পপতিরা কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশ ছেড়ে কেউ চলে যাচ্ছেন বা কেউ সেই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েই চলেছেন। তাতে কি ব্যাংকের এবং জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে না? জাতীয়করণ হলেই কি এগুলোকে রোখা যাবে?
@: জাতীয়করণ না, কিন্তু জাতীয় নীতিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় নীতি জাতীয় ব্যাংকের ওপরই কার্যকর করা যায়। কঠিন নীতি থাকলেও আজ এই অবস্থা হতো না।
