গৌতম দে ..

নবম পর্বের পর…

—কামান। সুখেন বলে, গুলেকাকা বলেছিল এর নাম নাকি প্যাটন ট্যাংক।

—এটা দিয়ে যুদ্ধ করে?

—হুম। ছোট্ট করে বলে সুখেন। তারপর ঘুরে ঘুরে দেখে প্যাটন ট্যাংকটাকে। গুলেকাকা আরও অনেক কিছু বলেছিল। এখন আর তেমন মনে নেই। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ব্যবহার হয়েছিল এই কামান। এখন অচল। আরও আধুনিক কামান বেরিয়েছে। সেই পুরনো স্থবির কামানের চারপাশে বিহ্বল চোখে তাকিয়ে থাকে সুখেন। কামানের চারপাশে লোহার বেড়া আছে। আছে লোহার গেট। খোলা পড়ে আছে। ঠিক খোলা পড়ে নেই। ভেঙে পড়েছে। সেই গেট দিয়ে অনেক মানুষ অনায়াসে ঢুকে যাচ্ছে ভিতরে। বাচ্চা ছেলেদের উৎসাহটা সবচেয়ে বেশি। কামানের মাথায় গিয়ে চড়ে বসেছে। কেউ আবার কামানের নলের ওপরও। কামানের ঢাকনা খুলে অনেকেই ঢুকে যাচ্ছে ভিতরে। আবার বেরিয়ে পড়ছে নিমেষে।

সুখেনকেও এমনই ছেলেমানুষে পেয়ে বসে। সেও ছেলেমেয়ের হাত ছেড়ে একছুটে উঠে পড়ে কামানের ওপর। তারপর কামানের ভিতর ঢুকে পড়ে। কামানের নলটা ময়দানের দিকে ঘুরিয়ে মুখ দিয়ে গোলা ছুটে যাওয়ার মত আওয়াজ করে। টিক টিক টিক…। একমাত্র সেই শুনতে পারে ভয়ংকর আওয়াজ।

সুখেনের ছেলে টুবলা মাকে ধাক্কা মেরে জিগ্যেস করে, বাবা কোথায়? মালতি কোনও উত্তর দেয় না। সে তাকিয়ে থাকে কামানের দিকে…।

সমাপ্ত …..