গার্গী সিনহা
কোনও নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষ যখন প্রথম বসতি গড়ে, তখন সেই পরিবেশ থেকে সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান সংগ্রহ করে তারা তৈরি করে মাথা গোঁজার প্রাথমিক আশ্রয় বা বাসগৃহ। শুরুর সেই দিনগুলিতে এ জাতীয় আশ্রয়স্থল তৈরির কোনও পূর্বজ্ঞান তাদের না থাকলেও পরবর্তীতে নিজেদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ— মূলত Trial and error পদ্ধতিতে তারা নিতান্তই প্রয়োজনভিত্তিক এই বাসগৃহ তথা বাসগৃহনির্মাণশৈলীর পরিমার্জন ও পরিবর্তন ঘটাতে থাকে দরকার মত।
এভাবেই বংশ পরম্পরায় ঐ নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বাসগৃহনির্মাণশৈলীর পরিবেশ-নিয়ন্ত্রিত একটা ধারা তৈরি হয়, যা তাদের বাস্তুতান্ত্রিক অভিযোজনের প্রক্রিয়াকে প্রতিফলিত করার পাশাপাশি তাদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়কেও সুদৃঢ় করে। স্থাপত্যবিদ্যায় এজাতীয় বাসগৃহনির্মাণশৈলী বোঝাতে ইংরেজী Vernacular architecture পরিচয়কেও পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়, যাকে আমরা দেশজ বাসগৃহনির্মাণশৈলী বলতে পারি। প্রাকৃতিক পরিবেশ এক্ষেত্রে দু’ভাবে দেশজ বাসগৃহকে প্রভাবিত করে।
প্রথমত, গৃহনির্মাণের যাবতীয় উপকরণ সংগৃহীত হয় পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে, দ্বিতীয়ত, গৃহের কাঠামো প্রাথমিকভাবে অনেকটাই নির্ভর করে স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর। বর্তমান রচনায় আমরা দেখব হিমালয় পাদদেশীয় অরণ্যসংকুল ডুয়ার্স সমভূমির পরিবেশ কিভাবে বিভিন্ন দেশজ জনজাতির দেশজ বাসগৃহগুলিকে প্রভাবিত করে এসেছে।
ক্রমশ……
