গৌতম দে

পথম পর্বের পর…..

কারখানার লাগোয়া বিশাল আধুনিক বাড়ি তার। কয়েকটা দামী গাড়ি আছে। তাতে চড়ে সে। শহরের অনেক দূর অবধি তার নামডাক। তার হাতও অনেক দূর অবধি ছড়িয়ে। শহরের অনেক নামী নেতারা তাকে ভালমত নামে চেনে। জানে। ফলে সবাই তাকে সমঝে চলে। তার মুখের ওপর কেউ কথা বলতে সাহস করে না। তাকে ঘিরে থাকে অনেক চ্যালারা। চ্যালাদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও আছে। তারা সব মাহিনা করা লোকজন। রানা দুবের কথায় ওঠবস করে। কাউকে ‘মায়ের ভোগে’ পাঠাতে তাদের হাত কাঁপে না। রানা দুবের এক ইশারাই কাফি। চ্যালারা সব সময় প্রস্তুত। একেবারে গভীর রাত পর্যন্ত তার ছায়া হয়ে পাশে পাশে চলে। ঘুরঘুর করে।

কালো মুসমুসে গায়ের রঙ। বিশাল ভুঁড়ি। সামনের দিকে উঁচিয়ে আছে। সব সময়ের জন্য দামী জামা কাপড় পরে। তার রঙও সাদা। এমন কি জুতোও। গলায় ছাগল দড়ির মত মোটা সোনার চেন। একটা নয়। দুটো। হাতে সোনার বালা। কবজিতে দামী ঘড়ি। দশ আঙুলে বিভিন্ন পাথর বসান বারটা সোনার আংটি। জ্যেতিষীর কথা মত, সমস্ত গ্রহনক্ষত্রকে প্রাণপণে বশে রাখার চেষ্টা। তাতে নাকি ভাগ্যের চাকা গড়গড়িয়ে চলছে।

সেদিকে তাকিয়ে সুখেন গামছায় রোগা প্যাকাটি শরীরটা মুছতে মুছতে নিজের মনেই ফিসফিস করে অনেক কিছু বলতে থাকে। না গেলে, অনেক কথা উঠবে অমনি। বলবে সুখেন অন্য পার্টিতে মন দেচে। ‘একঘরে’ করে দেবে তখন। দরমার ঘর। ভাঙতে কতক্ষণ। বাড়ি ভেঙে দিতেও

পারে। জ্বালিয়ে দিলেও কেউ কিছু বলতে পারবে না। ঘরে যুবতী বউ আছে। আছে ছোট ছোট দুটি ছেলেমেয়ে। বড়টা ক্লাস থিরিতে পড়ে। ছোটটা টুতে। দুপুরের খাওয়াটা ইস্কুলেই মেরে দেয়। কখনওবা হাতে করে বাড়ি নিয়ে আসে। তারপর যদি বউটারে গণধর্ষণ করে। তখন?

ক্রমশ…….