প্রবীর আচার্য
পঞ্চম পর্বের পর……….
সামুদ্রিক লবণ ছাড়াও আর একরকম লবণ পাওয়া যায়, তাকে বলে সৈন্ধব লবণ।
আগে আমার ধারণা ছিল সৈন্ধব লবণও সিন্ধু অর্থাৎ সমুদ্রজাত। কিন্তু ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে দেখি, সৈন্ধব লবণ আমদানি হত সিন্ধু প্রদেশের পাহাড়ি এলাকা থেকে। সিন্ধুপ্রদেশে জাত বলে এর নাম সৈন্ধব লবণ।
এটা আসলে পাথুরে লবণ, যাকে ইংরেজিতে বলে ‘রকসল্ট’। পাহাড়ের খাঁজে বৃষ্টিধৌত লবণ কেলাসিত হয়ে জমা হয়। কেলাসিত হওয়ার সময় কোনও অশুদ্ধি লবণের সঙ্গে থাকতে পারে না। তাই এটি প্রাকৃতিক ভাবেই বিশুদ্ধ লবণ।
শুধু সোডিয়াম ক্লোরাইড নয়, পাহাড়ের খাঁজে একই রকমভাবে ফটকিরি অর্থাৎ স্ফটিক, বিটলবণ, শিলাজিত নামক মিশ্রলবণ, সালফার বা গন্ধক প্রভৃতি নানা পদার্থ বিশুদ্ধ অবস্থায় জমা থাকে।
কলকাতার জাদুঘরে গেলে দেখা যাবে খনিজ পদার্থের গ্যালারিতে ফটকিরির একটি বিশাল আকারের কেলাস বা স্ফটিক কাচের বাক্সে রাখা আছে। যেহেতু সৈন্ধব লবণ বিশুদ্ধ তাই বিধবা, সাধুসন্ত, ব্রহ্মচারীদের ভোগ এবং ব্রত পার্বণে এই লবণ ব্যবহার হত।
এমনকি দেবতাদের ভোগেও অনকসময় সৈন্ধব লবণ নিবেদন করা হত আলাদা ভাবে।
ক্রমশ…….
