প্রশান্ত ডোম

ভারতীয় জনজীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত মহাযোগী গোরখনাথ। এক আশ্চর্যজনক ভাবে শিব চতুর্দশীর দিনে নেপালের পশুপতিনাথ মন্দির সহযোগী মৎসেন্দ্রনাথ অদ্ভুত দৈববাণীতে শুনতে পান ঈশ্বরপ্রেরিত এক তেজস্বী যুবক সাধকের কথা। দৈববাণীকে মর্যাদা দিয়ে, সম্মান জানিয়ে তিনি ফিরে আসেন তার আশ্রমে। ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক আবির্ভাব হবার আগেই স্বয়ং মহাদেব যোগীবর মৎসেন্দ্রনাথকে বলে দিয়েছিলেন এই চিহ্নিত মহাসাধক এর কথা। পরবর্তীকালে সাধনার জগতে ইতিহাস তৈরি করলেন সেদিনের সেই যুবক। যোগীবর মৎসেন্দ্রনাথ তার নব্য শিষ্যকে হিংলাজ ·তীর্থ থেকে আনা ঠুমরি ও আশাপুরি মালা অর্পণ করে যোগ শিক্ষা এবং সাধন পদ্ধতির নিগূঢ় তত্ত্ব দিন প্রতিদিন শিখিয়েছিলেন।

শিষ্য গোরখনাথকে নিয়ে যোগীবর মৎসেন্দ্রনাথ বিভিন্ন তীর্থ ভ্রমণ করছিলেন। অবশেষে তারা দৈব নির্দেশে মহাতীর্থ অমরনাথ এসে পৌঁছলেন। কথিত আছে এই অমরনাথের তুষার শৃঙ্গের সামনে যোগী যোগীনীদের নৃত্যানুষ্ঠান হয় এবং সেই শুভ লগ্নের সময় তারা সেখানে পৌঁছেছিলেন শিব চতুর্দশীর ওই শুভলগ্নে। এইভাবে সাধনার বিভিন্ন দিক, বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা তিনি শিষ্যকে শিখিয়ে দিলেন। অবশেষে সে তার বন্ধন মুক্ত করতে গোরখনাথের পাশ থেকে সরে যাবার সিদ্ধান্তের কথা বলতেই গোরখনাথ বললেন, গুরু অদর্শনের কথা তিনি ভাবতেই পারছেন না। তখন মৎসেন্দ্রনাথ তাকে অভয় দিলেন যে যখনই সত্যি সত্যিই তার প্রয়োজন হবে, তিনি তখনই গোরখনাথ এর সামনে উপস্থিত হবেন।

ক্রমশ…….

সূত্র : ভারতের সাধক (সপ্তম খন্ড)