ডা চন্দ্রগুপ্ত

১৭ তম পর্বের পর……

এরপর পুলকের কিছু বলার থাকতে পারে না। কারণ প্রণব বসু হরিণের পালের মধ্যে থেকে নিজের শিকার চিহ্নিত করে এগোচ্ছে। ‘পরে কথা হবে প্রণব দা, বিষয়টা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজন আছে। একটা দায়সারা গোছের উত্তর দিয়ে পুলক পালিয়ে বাঁচল। কিন্তু এটা বুঝতেই পারছে না যে হরিণের পালের মধ্যে প্রণব বসুর শিকার কোনটি পুলক, না রৌনক?

ছেলে আক্রান্ত হবার পর থেকে রৌনকের বাবা সকাল বিকেল নিয়ম করে রৌনকের খবর নিচ্ছিলেন। প্রণব বসু বলে গিয়েছিলেন যে সুস্থ হলেও রৌনক যেন বাড়ির বাইরে না যায়। কেউ যেন ওর সাথে দেখাও না করে। এতে নাকি পুলিসের ওপর চাপ দৃষ্ট করা যাবে দোষীদের ধরার জন্যে।

এই দুঃসময়ে প্রণব বসুর কথাগুলো যেন কুড়ি বছর আগে শোনা পার্টি মিটিং এর অমৃতবানী মনে হচ্ছে। ছেলেকে এতদিন ভালোমন্দের বিচার করতে শেখাননি। তবে এখন শেখানো দরকার, এ বিশ্বাস নিজের মধ্যে আবার তৈরি হচ্ছে।

রৌনকের বাবা জানে যে সংঘবদ্ধ শক্তিই দলের সম্পদ। গুটিকতক স্বার্থপর সদস্যদের জন্যে পুরো পার্টিকে দোষ দেওয়া যায় না। কারণ কেউই তো দোষমুক্ত নয়, লেবার পার্টি সমালোচনাকে গুরুত্ব দেয়, তাই সংশোধন হয় দলের ভেতরে। পার্টির কাজকর্ম ছেড়ে বসে যাওয়াটা এত বছর পর ভুল বলে মনে হচ্ছে ওনার। তাই ছেলে রৌনককেও বোঝাচ্ছেন, কিছুটা সফল ও হয়েছেন বলে ওনার ধারণা।

ক্রমশ…….