ধ্রুব দে

২য় পর্বের পর ……

এ বিয়ে ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। কলির সঙ্গে বিয়ের কথা কখনও ভাবেনি। কলি, কলির বাড়ির কেউও ভাবেনি, বলতে পারেনি অশোক। ফ্যালফ্যালে করে চেয়ে থেকেছে। বাবা-মা’র প্রতি ক্ষোভ উথলে উঠেছে। কেন রাজি হল? কেন তার সঙ্গে কথা বলল না?বিলাসের বোন বরষা অশোক-বিলাসের চেয়ে বছর পাঁচেকের ছোট। ভারি মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে। অশোকের কোনো ভাই বোন নেই। তাই বাড়ির খুব আদরের। অশোকের বাবা-মা শুধু মেয়ে হিসেবে নয়। তাদের ইচ্ছে ছিল বরষাকে ছেলের বউ করে বেঁধে রাখবে। বিলাসের মা-বাবারও মনে হয় সায় ছিল। একটু একটু বড় হওয়ার পর অশোক ঠারেঠোরে বুঝতে পারত। হুটোপুটি করে

একসঙ্গে বড় হয়েছে, প্রথম দিকে মেনে নিতে কষ্ট হত তার। পরে অবশ্য তার মনও সায় দিয়েছিল।

বরষাও বুঝতো মনে হয়। মাঝে মাঝে এমন শাসন করত, মনে হবে অশোক নয়, বরষাই বছর পাঁচেকের বড়। অথচ বিলাসের ওপর ওমন চোটপাট নেওয়ার কথা ভাবতেই পারে না বরষা। অশোকও কোন জাদু বলে বরষার কথায় প্রতিবাদ করতে ভুলে যেত। বিলাসের প্রতি যত, তার চেয়ে অনেক বেশি বরষার অধিকার যেন অশোকের প্রতি। তবে এর বেশি কিছু নয়, বিষয়টা উভয়ের ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মেলামেশায় এর বেশি পরিবর্তন ঘটেনি। … আর বুঝতে শেখার পর বরষা কখনও ভাই ফোঁটায় ফোঁটা দেয়নি অশোককে। অশোক আর তার মা আগের দিন রাতে মাসির বাড়ি চলে যেত। কিংবা রাখি পূর্ণিমায় রাখি বাঁধেনি কখনও। অশোকও কখনও বায়না ধরেনি।

ক্রমশ…….