ধ্রুব দে

বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে, অশোক দেখে মিতু দৌড়ে আসছে তাকে লক্ষ্য করে। মিতু সাড়ে তিন বছরের টালমাটাল পায়ে দৌড়চ্ছে। অশোক দাঁড়িয়ে পড়ে। নড়তে পারে না।

গ্রীষ্মের চামড়া পোড়ানো রোদে ফিরছে। দুপুর গড়িয়ে এল প্রায়। বাস থেকে মিনিট পনেরোর হাঁটাপথ। মাটির ধুলো ওড়া রাস্তা ফুরোতে চাইছে না। গলা শুকিয়ে কাঠ। ভাবছে কতক্ষণে বাড়ি ফিরে জল খাবে। সেই ভোরে বেরিয়েছে। মাঝখানে বিলাসের ওখানে এক কাপ লিকার চা। খিদেও পেয়েছে খুব।

বিলাস অশোক ছেলেবেলার বন্ধু। বন্ধু বললে সবটা বলা হয় না। বিলাস আর ওদের গায়ে লাগা বাড়ি। মাঝখানে কোনো বেড়া নেই। অশোকের বাবা আর ওর বাবা যেমন ভাই দাদার সম্পর্ক, তেমনি অশোকের মা আর ওর মার দিদি-বোনের সম্পর্ক। বিলাস আর ওর বয়স কয়েক মাসের এদিক-ওদিক। দুজনে একসঙ্গে বড়ো হয়েছে। এ বাড়ি ও বাড়ির মধ্যে প্রভেদ বোঝেনি। ওদের বাড়ি যখন পাকা হল অশোকের বাবা দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করেছে। আবার ওরাও অশোকদের কাজকর্মে গায়ে গতরে খাটে।

চাকরিও হল এক জেলায়। বিলাসের সদরে, এক সরকারি দপ্তরে। অশোকের গ্রামের এক স্কুলে, শিক্ষকের। সদরে অফিস হওয়ায় বিলাস বাড়ি থেকে যাতায়াত করে।

ক্রমশ…..