সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
ষষ্ঠ পর্বের পর……..
…….
আমি আর আমার স্ত্রী নাতিটাকে পাগলের মত ভালোবাসতাম। যে দুটো বছর পেয়েছিলাম সেই সময়টুকু আষ্টেপৃষ্টে লেগে ছিলাম ওর সাথে। আমার ছেলে আর তার বৌ হাসপাতালে বেরিয়ে যেত তাদের ছেলের দায়িত্ব বিনে মাইনের দুটো চাকরের হাতে তুলে দিয়ে। দাদা, সেই দুটো অসহায় সম্বলহীন মানুষ তাদের উত্তরসুরিকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে রাখত সারাটা দিন। কিন্তু দিনের শেষে আমার স্ত্রীর কপালে জুটত কাজে গাফিলতির অপবাদ। ছেলে খায়নি কেন, ছেলে কেঁদেছে কেন, হাজার কেন”র চাপে আমার নিজেকে ভীষণরকম দিশাহীন লাগত। সত্যি বলছি দাদা এই শান্তিনীড়ে এসে যেন কিছুটা নিস্তার পেয়েছিলাম।
‘আপনার দ্বিতীয় অপ্রাপ্তিটা কি?’
‘আমার ছেলে। মরার আগে একটিবার ওর গলায় বাবা ডাকটা যদি শুনতে পেতাম। মাঝে মাঝে মনে হয় অপমানিত হয়েছি, লাথিব্যাটাও খেয়েছি, কিন্তু তবুও তো চোখের দেখাটা দেখতে পেতাম। এই ছ ছ’টা বছর একটা দিন ও যে ওদের ভুলতে পারিনি। এই বৃদ্ধাশ্রমে বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে অনেকগুলো কাগজই রাখে, আমি সব কাগজগুলো রোজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি। অন্য কোন খবর নয়, জানেন শুধু একটা পাতাই পড়ি, যে পাতাটায় হারানো প্রাপ্তির খবর দেয়।
ক্রমশ……
