জোৎস্না রায়

সব চেয়ে সুন্দর ও হাসিটা আর সম্মোহন করা বাচন ভঙ্গি। শ্রমণার কেন জানি ছেলেটিকে পত্রপাঠ বিদায় করতে ইচ্ছে করলো না সে ছেলেটিকে সোফায় বসতে বলে রানীকে শরবত আনতে বললো। ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বললো, শুনুন আমাকে কিছু দেখিয়ে বা বুঝিয়ে আপনার শুধুই সময় নষ্ট হবে। তার থেকে আপনি যদি বুধবার বা অন্য কোন ছুটির দিন দেখে এই সময় আসেন, সেদিন আমার স্বামী মিঃ সোম বাড়ি থাকবেন। আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তাতে আপনার কতোটুকু উপকার হবে জানিনা, তবে আমাদের একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজর্ষী একটু বিষন্ন হয়েই পরক্ষণে ঝকঝকে।

বললো, ‘ঠিক আছে ম্যাম। আমি সামনের রবিবার ঠিক এই সময়েই আসবো। আপনি একটু স্যার কে বলে রাখবেন প্লিজ।’ বলে একটা নোটবুক বের করে নাম ঠিকানা লিখে আর একবার নমস্কার জানিয়ে চলে গেলো। শ্রমণা দরজাটা বন্ধ করে আবার সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে আবার ম্যাগাজিনটা টেনে নিলো কিন্তু পড়ায় মন বসলো না তারা খালি ছেলেটির চোখ দুটো আর হাসিটা – চোখে ভাসছে। এরকম চোখ কলেজ জীবনে একজনের ছিল, যাকগে।

রানীর একটা বিশেষ গুণ আছে। কার কখন কি প্রয়োজন সে ঠিক বুঝতে পারে। সে এক কাপ গরম চা শ্রমণার সামনের টেবিলে রেখে গেলো। সে চায়ে চুমুক দিয়ে ম্যাগাজিনটা আবার টেনে নিলো। নামটা সুন্দর শুভাবরি। একবার ঘড়ির দিকে তাকালো। সময় হয়ে গেছে অনেকক্ষণ, অমিতাভ এখনো আসছেনা কেন কে জানে।

ক্রমশ