ডা চন্দ্রগুপ্ত
সূর্যোদয়ের পথে পর্ব ১১
১১ তম পর্বের পর…..
বিনোদ বিছানায় শোবার পর, নমিতা অনুযোগ করছিল, —কতদিন তোমাকে বলেছি, দিনকাল ভালো নয়, রাতে এখন আর বাইরে যাবার দরকার নেই। কথা শুনবে না তবুও,
—একি তুমার এত ঘাম হৈছে কেন গো! শরীর ঠিক আছে তো?
শাড়ির আঁচল দিয়ে বিনোদের গলায়, কপালের ঘাম মুছিয়ে দিতে দিতে বিড় বিড় করে নিজের বিরক্তি
প্রকাশ করছিল নমিতা। তার মধ্যেই নিজের ভেতরে চলতে থাকা দুশ্চিন্তা চেপে রেখে বিনোদ বলল,
—বনের হরিণ, বুনো ছাগল, খরগোশ এরা সব সময়ই বাঘ-সিংহের হাতের নাগালে থাকে। তাই গ্রামে বাস করে পুলিশ অথবা ভাই কারো হাত থেকেই রেহাই নেই আমাদের।
বাইরের নিস্তব্ধতা এবার যেন ঘরেও ছেয়ে গেল। দুজনেই দুজনের মতো করে পরিস্থিতি ভাবতে লাগল, দূরে কয়েকটা রাস্তার কুকুরের ডাকে যেন শব্দহীন রাতকে আরো ভয়াল করে তুলছে। সাড় ভেঙে নমিতা বলল, —রঞ্জার বাপটা মনে লাগছে টিঁকবে লাই। এট্টু
এট্টু করে টাকা সাজাই চাষের মাটি লিলো- আর সিখানেই উকে… —হাঁ, সিধুরা বইলছে গ্রামে সবার লগে সমান
মাটি থাইকবে। শাল্লা, আমার মাটি তুরা ভাগ কইরবার কে বে! মন লাগে, বড়বাবুক উদের সব কথা কইয়ে দিই।
ক্রমশ……
