প্রবীর আচার্য
প্রথম পর্বের পর……
গাঁয়ের মোড়পতলায় হয় পুজো। পুজো শেষে চারকোণা যজ্ঞকুণ্ড কেটে হোম ও পাঁঠাবলিও হয় ৷ হোম কিন্তু কাঠ পুড়িয়ে হয় না, হয় গত বছরের রবি শস্যের শুকনো গাছ অর্থাৎ খাড়ি পুড়িয়ে। গম কিংবা সরষের খাঁড়ি, পাটকাঠি, আইড়ি বা অড়হর, শন। এসবের শুকনো খাড়ি জমিয়ে রাখা থাকে এই পুজোর জন্য। এই যজ্ঞের আগুনেই নতুন মাটির হাঁড়িতে রান্না হয় চরু অর্থাৎ পায়েস। সেই চরু নিবেদন করা হয় ইন্দ্রদেবকে। তাঁর কাছে আমন ধানের ফলন ভালো করার আবেদনের সঙ্গে আগামী রবি মরসুমের ফসল বোনার অনুমতিও নেওয়া হয়। পুজো
পুরোহিত করেন, কিন্তু সমস্ত গাঁয়ের চাষিরা অংশগ্রহণ করেন। জোগারযাক্তি করার মূল ভূমিকায় থাকেন অন্ত্যজ সম্প্রদায়।
পুজোর পর গাঁয়ের কুমারী মেয়েরা ওই যজ্ঞকুণ্ডের মাটি সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যায়, তার সঙ্গে মেশানো হয় ইঁদুরের গর্তের মাটি। গোটাকতক পোড়া মাটির সড়া কিংবা নারকেলের মালাতে সেই মাটি দিয়ে তার উপর রবিশস্যের বীজ ছড়িয়ে দেয়। রবিশস্য বলতে যে সব ফসল কার্তিক মাসে চাষ করা হবে। যেমন যব, গম, ডালশস্য, তৈলবীজ, পাট, শন, কুসুমবীজ এইসব। অন্ধকারে পাত্রগুলিকে রেখে জল দিয়ে পরিচর্যা করে মেয়েরা, যাতে তাড়াতাড়ি অঙ্কুরোদ্গম হয়। একটি গোপন তান্ত্রিক ক্রিয়া আছে এর সঙ্গে। পাড়ার যে কুমারী মেয়ে এসময় প্রথম ঋতুমতী হয়, সে খুব ভাগ্যবতী। তার ঋতুরক্ত জলের সঙ্গে মিশিয়ে ওই মাটির সঙ্গে মেশান হয়।
ক্রমশ……
