ওয়েব ডেস্ক;২৯ মার্চ: ভারতের ক্রীড়া ব্যবস্থার বিস্তার: খেলো ইন্ডিয়া পদ্ধতি
খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচি তৃণমূল স্তরে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, প্রতিভা অন্বেষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি সুগঠিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এটি বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল এবং সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেয়, যাতে ক্রীড়াক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস (KITG)-এর সূচনা আদিবাসী অ্যাথলিটদের জাতীয় ক্রীড়া কাঠামোর মূল স্রোতে যুক্ত করার মাধ্যমে এই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস: পরিধি ও তাৎপর্য

প্রথম KITG (২৫ মার্চ–৩ এপ্রিল ২০২৬) ছত্তিশগড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আদিবাসী ক্রীড়াবিদদের জন্য নিবেদিত ভারতের প্রথম জাতীয় ইভেন্ট। এর মুখ্য বৈশিষ্ট্য হল:

  • মোট ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণ।
  • অপ্রকাশিত আদিবাসী প্রতিভাকে মূলধারার খেলায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করা।

গেমসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ:

  • সাতটি পদকজয়ী খেলা: অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, হকি, ভারোত্তলন, তিরন্দাজি, সাঁতার এবং কুস্তি।
  • প্রদর্শনী ইভেন্ট: দেশীয় খেলা যেমন কবাডি এবং মালখাম্ব।

দেশীয় ক্রীড়াসমূহ

কবাডি

কবাডি শক্তি, কৌশল এবং সহনশীলতার এক ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খেলা, যার শিকড় গ্রামীণ ভারতে প্রোথিত। ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে এটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পায় এবং ভারতের দেশীয় ক্রীড়ার প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে।

মালখাম্ব

মালখাম্ব জিমন্যাস্টিকস, যোগব্যায়াম এবং প্রশিক্ষণের এক অনন্য সমন্বয়, যা একটি খুঁটি বা দড়ির ওপর প্রদর্শন করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে কুস্তিগীরদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত এই খেলাটি বর্তমানে ভারসাম্য ও ক্ষিপ্রতা প্রদর্শনের একটি সুশৃঙ্খল মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

ছত্তিশগড়: অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া উন্নয়নের আয়োজক

ছত্তিশগড়ের বা এবং সরগুজার মতো অঞ্চলে KITG এর আয়োজন সেই সব পিছিয়ে পড়া এলাকায় পৌঁছে যাওয়ার প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে। এর মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  • এটি বস্তার অলিম্পিক এবং সরগুজা অলিম্পিকের মতো উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
  • এটি সামাজিক অংশগ্রহণ এবং প্রতিভা অন্বেষণকে উৎসাহিত করে।
  • এটি আদিবাসী যুবকদের জাতীয় ক্রীড়া ব্যবস্থার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত হতে সাহায্য করে।

অংশগ্রহণ এবং নির্বাচন

  • বস্তুত, ৬০,০০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
  • মোট ৩৩৮টি পদক প্রদান করা হবে: ১০৬টি সোনা, ১০৬টি রুপো এবং ১২৬টি ব্রোঞ্জ।

নির্বাচন প্রক্রিয়া

  • প্রথম ধাপ: যোগ্য আদিবাসী অ্যাথলেট শনাক্ত করতে রাজ্য স্তরে ট্রায়াল।
  • দ্বিতীয় ধাপ: চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন কর্তৃক জাতীয় স্তরে ট্রায়াল।

একটি ট্যালেন্ট আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি (TIDC) ভবিষ্যতে খেলো ইন্ডিয়ার অধীনে প্রশিক্ষণের জন্য অ্যাথলেটদের বাছাই করছে।

পরিকাঠামো এবং প্রতিভার বিকাশ

ক্রীড়া পরিকাঠামোর বিস্তার

  • মোট ৩,১৫৮ কোটি টাকা বিনিয়োগে ৩৪৪টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
  • সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে মাল্টিপারপাস হল, সিন্থেটিক ট্র্যাক, ফুটবল ও হকি মাঠ এবং সুইমিং পুল।

এই পরিকাঠামো বিস্তার গ্রামীণ ও আদিবাসী অঞ্চলে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে।

উপসংহার

খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আদিবাসী ক্রীড়াবিদদের জাতীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে এবং তৃণমূল স্তরে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে, এই উদ্যোগ একটি বৈচিত্র্যময় ও সমতাপূর্ণ ক্রীড়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।