ওয়েব ডেস্ক; ২৫ মে: গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাবের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লুএইচও) – ২০০৫ সালের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা (আইএইচআর)-এর আওতায় – ২০২৬ সালের ১৭ মে এই পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ‘বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন’ ইবোলা ভাইরাস রোগের চলমান প্রাদুর্ভাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মহাদেশীয় নিরাপত্তার জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
অধিকন্তু, ডব্লুএইচও-এর আইএইচআর জরুরি কমিটি ২০২৬ সালের ২২ মে কিছু সাময়িক সুপারিশ জারি করেছে। এই সুপারিশগুলোর লক্ষ্য হলো প্রবেশপথগুলোতে রোগ নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে “যেসব এলাকায় বুন্দিবুগিও ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে, সেখান থেকে আগত এবং অজানা কারণে জ্বরে আক্রান্ত যাত্রীদের শনাক্ত, মূল্যায়ন, রিপোর্ট এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা করা যায়”; পাশাপাশি “যেসব এলাকায় বুন্দিবুগিও ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা”।
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং উগান্ডার সীমান্তবর্তী দেশগুলো – যার মধ্যে দক্ষিণ সুদানও অন্তর্ভুক্ত – রোগ সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ইবোলা রোগ হলো এক ধরণের ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর, যা ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন’-এর সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর রোগ এবং এর মৃত্যুহার অনেক বেশি। বর্তমানে, বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন-জনিত ইবোলা রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুমোদিত হয়নি।
ভারতে বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন-জনিত ইবোলা রোগের কোনো ঘটনা বা কেস এখন পর্যন্ত রিপোর্ট করা হয়নি।
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং অন্যান্য আক্রান্ত দেশগুলোর পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এবং ডব্লুএইচও -এর সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, ভারত সরকার সকল ভারতীয় নাগরিককে পরামর্শ দিচ্ছে যে – পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত – গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করুন।
যেসব ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে এই দেশগুলোতে বসবাস করছেন অথবা ভ্রমণ করছেন, তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তাঁরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলেন এবং সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
