গার্গী সিনহা

দ্বিতীয় পর্বের পর….

বিভিন্ন প্রজাতির বন্যজন্তু, পাখি, সরীসৃপ, কীটপতঙ্গের সাথে সাথে এই অরণ্য সুদীর্ঘকাল ধরেই রাভা, টোটো, গারো, বোড়ো বা মেচ প্রভৃতি দেশজ জনজাতির মানুষদেরও প্রাকৃতিক বিচরণভূমি (Natural Habitat)। এদের চিরন্তন অরণ্যনির্ভর জীবনচর্যার নানাদিক নিয়ে অনেক আলোচনা-গবেষণা হয়েছে। বর্তমান আলোচনা শুধুমাত্র এদের গৃহনির্মাণে অরণ্যের প্রভাব বিষয়েই সীমাবদ্ধ। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন যে জনজাতিভেদে দেশজ বাসগৃহগুলি আলাদা হলেও একই ধারণ পরিবেশে বিকশিত হওয়ার সুবাদে এগুলির গঠনশৈলীতে অভিযোজনগত কিছু মৌলিক সাজুয্য সহজেই চোখে পড়ে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ডুয়ার্সের অন্যতম প্রধান ভূমিপুত্র রাজবংশী জনসমাজকে কিছুটা ইচ্ছাকৃতভাবেই আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এর প্রধান কারণ, রাজবংশীরাও প্রকৃতিনির্ভর কিন্তু কৃষিকাজে অভ্যস্ত হওয়ায় এদের বসবাস মূলত অবণ্যের বাইরে নদীর উর্বর প্লাবনভূমি অঞ্চলে। ফলে এদের গৃহনির্মাণে স্থানীয় স্বাভাবিক উদ্ভিদের ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও তাতে অন্যান্য উল্লেখিত জনজাতির মতো অরণ্যের প্রভাব কিছুটা কম।

ক্রমশ…..